মোস্তাফিজ ম্যাজিকে রংপুরের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

স্পোর্টস ডেস্ক | সোমবার , ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৫ রানের জয় তুলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ ওভারে ঢাকার জয়ের জন্য দরকার ছিল ১০ রান। মাত্র ৪ রান দেন মোস্তাফিজুর রহমান। দারুণ জয়ে শেষ হাসি হাসে রংপুর। মোহাম্মদ মিঠুনের লড়াকু হাফ সেঞ্চুরিও কাজে লাগেনি। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নির্ধারিত লক্ষ্য ছুঁতে ব্যর্থ হয়ে ম্যাচ হেরেছে ঢাকা। ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানেই থামে ঢাকা। ইনিংসের শুরুতে আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ২২ বলে ৩১ রান করে কাইল মেয়ার্সের বলে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৮ বলে ২০ রান করে খুশদিল শাহর বলে আউট হলে খানিকটা চাপে পড়ে ঢাকা। মাঝের ওভারে ধীরগতির ব্যাটিংয়ে রান তোলার গতি কমে যায়। সাইফ হাসান ২৪ বলে ১৫ রান করে অ্যালিস আল ইসলামের শিকার হন। একপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকলেও অন্যপ্রান্তে একাই লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক মিঠুন। অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন মিঠুন। ৩৮ বলে ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি মারেন ৬টি চার ও ১টি ছক্কা। শেষদিকে শামীম হোসেন ১০ বলে ১১ রান করে ফেরেন মোস্তাফিজের বলে। শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলতে না পারায় ম্যাচ রংপুরের দিকেই ঝুঁকে যায়। শেষ পর্যন্ত সাব্বির রহমান ৮ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকলেও দলের হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত থেকে আসে ৫ রান। ফলে ৫ রানে ম্যাচ জিতে নেয় রংপুর। বল হাতে রংপুরের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন কাইল মেয়ার্স, অ্যালিস ও মোস্তাফিজ। এর আগে রংপুরের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য মসৃণ হয়নি। ওপেনার কাইল মেয়ার্স ১১ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে কিপার মিঠুনের হাতে ধরা পড়েন। অন্য ওপেনার লিটন দাসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ৬ রান করে জিয়াউর রহমানের বলে ইমাদ ওয়াসিমের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। দ্রুত দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ায় কিছুটা চাপে পড়ে রংপুর। চাপ সামলে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন ডেভিড মালান। ইংলিশ ব্যাটার ৩৩ বলে ৩৩ রান করে ইনিংসের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখেন। তবে তাকে সঙ্গ দিতে আসা তাওহীদ হৃদয় রানের খাতা খুলতেই ব্যর্থ হন। জিয়াউর রহমানের বলে আবারও মিঠুনের গ্লাভসে বন্দি হন হৃদয়। এরপর রংপুরের ইনিংসে গতি আনেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ ৪১ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৭টি চার। শেষ দিকে খুশদিল শাহ ছিলেন আরও আগ্রাসী। ২১ বলে ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে তিনি হাঁকান ৪টি চার ও ২টি ছক্কা। এই দুজনের জুটিতেই শেষ দিকে দ্রুত রান তোলে রংপুর। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ৭ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। অতিরিক্ত খাতায় যোগ হয় ৯ রান। সব মিলিয়ে ২০ ওভারে রংপুর রাইডার্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৫ রান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅ্যাশেজ সিরিজের বৃষ্টি বিঘ্নিত দিনে রুট-ব্রুকের লড়াই
পরবর্তী নিবন্ধশক্ত থাকো মোস্তাফিজ, জাতি তোমার পাশে আছে : বাফুফে সভাপতি