মোবাইল, শিশু ও আমাদের দায়িত্ব

বনানী শেখর রুদ্ | রবিবার , ৫ এপ্রিল, ২০২৬ at ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। মোবাইল ফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি এর অপব্যবহার বিশেষ করে শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। একসময় শিশুরা মাঠে খেলত, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাত, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকত। এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন। তারা খেলাধুলা ও আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে ভার্চুয়াল জগতে। এর ফলে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, চোখের সমস্যা, স্থূলতা, মনোযোগের ঘাটতি এবং মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে।

বর্তমানে অনলাইন পড়াশোনার কথাও বেশি শোনা যাচ্ছে। এটি একদিকে যেমন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারে এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে। পড়াশোনার নামে অনেক শিশু গেম খেলে, ভিডিও দেখে বা অন্য অপ্রয়োজনীয় কনটেন্টে সময় নষ্ট করে। তাই শুধু প্রযুক্তি দেওয়াই যথেষ্ট নয় তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।

এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে ‘সহজে ঘরে বসে আয়’ করার প্রলোভন দেখানো হয়। এগুলোর বেশিরভাগই বিভ্রান্তিকর বা প্রতারণামূলক। শিশুকিশোররা এসব দেখে ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে। তাই অভিভাবকদের উচিত এসব বিষয়ে সচেতন থাকা এবং সন্তানদের সঠিক তথ্য দেওয়া। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক অভিভাবক নিজের ব্যস্ততার কারণে ছোট শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দেন খাওয়ানোর জন্য, চুপ করানোর জন্য বা নিজে কিছু সময় পাওয়ার জন্য। কিন্তু এই সাময়িক সুবিধা শিশুর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশু তখন মোবাইলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যায়।

অভিভাবকদের করণীয়: শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে অভিভাবকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে মোবাইল ব্যবহার করতে দেওয়া, শিশুদের বাইরে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, তারা মোবাইলে কী দেখছে তা পর্যবেক্ষণ করা, সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।

ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে: আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। প্রযুক্তি থেকে তাদের পুরোপুরি দূরে রাখা সম্ভব নয়, কিন্তু সঠিক ব্যবহার শেখানো অবশ্যই সম্ভব।

মোবাইল ফোন নিজে খারাপ নয় এর অপব্যবহারই সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই, সন্তানদের সময় দিই এবং প্রযুক্তিকে তাদের উন্নয়নের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে শেখাই। একজন সচেতন অভিভাবকই পারে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভালোবাসায় সিক্ত করুন, দূরত্ব কমে যাবে সম্পর্কে
পরবর্তী নিবন্ধদেশ হতে দেশান্তরে