বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পুঁইছড়ি তেলিয়াকাটা এলাকায় হুরাইন জান্নাত (২০) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করা হয়। গৃহবধূ হুরাইন জান্নাত স্থানীয় মোহাম্মদ আলীর পুত্র মো. আমির হোসেন প্রকাশ মানিকের স্ত্রী। পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারী পাহাড় এলাকার সৌদি প্রবাসী মো. শাহাজানের কন্যা হুরাইন জান্নাতের সাথে আমির হোসেন মানিকের ৭–৮ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হুরাইন জান্নাত প্রতিদিনের মত বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে নিজ রুমে ঘুমাতে যায়। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে না উঠলে তার শাশুড়ী তাকে ডাকতে গিয়ে দেখে পুত্রবধূ নিজ শয়ন কক্ষে শাড়ি পেছিয়ে ঝুলে আছে। তাদের দাবি, রাতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মোবাইলে কথা বলা নিয়ে মান অভিমানকে কেন্দ্র করে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় স্বামী আমির হোসেন চট্টগ্রামে ছিল বলে সূত্রে জানা যায়।
তবে লাশ দেখতে এসে মেয়ের পরিবারের লোকজন শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করে মেরেছে বলে অভিযোগ করে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এদিকে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে মেয়ের পরিবার লাশ পেকুয়ার টইটং এলাকায় নিয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ কাশেম। তিনি বলেন, পুঁইছড়িতে দাফন করতে চাইলে মেয়ের পরিবার বাধা দেয় এবং তারা ছেলের পরিবারের প্রতি ক্ষিপ্ত থাকায় কেউ পেকুয়ায় গিয়ে জানাজায় অংশ নেয়ার সাহসও পায়নি।
ঘটনার ব্যাপারে বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুধাংশু শেখর হালদার বলেন, স্বামী–স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মান অভিমান থেকে গৃহবধূ নিজ শয়ন কক্ষে শাড়ি পেছিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে সেখান থেকে লাশ দাফনের জন্য পেকুয়ায় নেয়া হয়। ঘটনার ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।












