মেয়াদ শেষ হয়, শেষ হয় না কাজ

২৯৩ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ

বাঁশখালী প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ৫ এপ্রিল, ২০২২ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

বাঁশখালীতে স্বপ্নের বেড়িবাঁধের কাজ দীর্ঘ সময়েও শেষ না হওয়ায় শংকিত হয়ে পড়েছে উপকূলবাসী। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে সাধারণ জনগণের কাছে আতংকের নাম ছিল বেড়িবাঁধ। সে আতংক থেকে উপকূলের জনগণকে রক্ষা করতে বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেন বিশাল বাজেটের উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণে। তারই নিরিখে বাঁশখালী উপজেলার পোল্ডার নং-৬৪/১এ, ৬৪/১বি ও ৬৪/১সির সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্থায়ী পুনর্বাসন প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয় ২০১৫ সালে। ২০১৫ সালের ১৯ মে ২৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাঁধ ভেঙে যাওয়া, সিসি ব্লক ধসে পড়াসহ নানা কারণে কয়েক দফা সংস্কার করা হয়। তাতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে সংশোধিত ব্যয় ৪২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বাড়িয়ে ২৯৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা করা হয়। কাজের মেয়াদ কয়েকবার বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত করা হলেও ছনুয়ায় ২.৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে মাত্র। ছনুয়ার কাজে নানা অনিয়মে ঠিকাদারের সাথে পাউবোর মামলা অবশেষে দফারফা হয়।
অপরদিকে খানখানাবাদে বাঁধের কাজ শেষ হলেও প্রেমাশিয়া অংশে ভাঙনের ফলে স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। বর্ষা মৌসুমের আগে যদি ভেঙে পড়া বাঁধটি সংস্কার করা না হয় তাহলে বঙ্গোপসাগরের প্রবল স্রোতে ভেঙে পড়তে পারে। পাউবো কর্মকর্তারা তা সংস্কার করা হবে বলে এ প্রতিনিধিকে জানালেও কবে নাগাদ এ বাঁধ সংস্কার করা হবে তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে স্থানীয় জনগণ।
খানখানাবাদের প্রেমাশিয়া ও রায়ছটা এলাকার উপকূলীয় বাঁধের সংস্কার এলাকায়, লোকালয়ে পানির প্রবেশ ঠেকাতে সিসি ব্লকের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। অনেক জায়গায় সিসি ব্লক বসানোর কাজ শেষ হলেও সমুদ্রের পানির চাপে ব্লকের নিচে মাটি সরে দেবে গেছে। আবার কোথাও ব্লকগুলো উঠে নিচের দিকে ধসে পড়েছে। অনেক জায়গায় গত কয়েক বছরে কয়েক দফায় সংস্কার কাজ করেও ভাঙন থেকে রক্ষা করা যায়নি।
স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, পাউবো কর্মকর্তাদের যথাযথ তদারকি না করার কারণে ঠিকাদাররা নিজের মত ও রাজনৈতিক নেতাদের সাব ঠিকাদার হিসাবে নিয়ে কাজ করার কারণে দীর্ঘ সময়েও বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হচ্ছে না।
চলমান কাজ নিয়ে ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশিদ বলেন, পূর্বে কাজ নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। বর্তমান ঠিকাদার যেভাবে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন আশা রাখি এবার কাজ সমাপ্ত করতে পারবেন এবং কাজেও কোনো অনিয়ম হবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রকাশন চাকমা বলেন, বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় চলমান এডিপি প্রকল্পের আওতায় ৩.৮৪৮ কি.মি নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ এবং ৬.২৬ কি.মি বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ সহ ঢাল প্রতিরক্ষা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ছনুয়া ইউনিয়নে ২.৭৫০ কি.মি এবং খানখানাবাদ ইউনিয়নে কিছু কাজ চলমান রয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে সমাপ্তির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে আর বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৮৯.২৫%। অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। চলতি বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে পুকুরিয়া, সাধনপুর ইউনিয়নে ৪০০ মিটার জিওব্যাগ ডাম্পিং কাজ এবং সরল ইউনিয়নে ২০০ মি: বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, নতুন করে প্রস্তাবিত ডিপিপি দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রধান অঙ্গগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জলকদর খাল পুনঃখনন, সাংগু নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ, পোল্ডারের নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ২৬ টি খাল পুনঃখনন, নতুন স্লুইস গেট নির্মাণ, লবণ চাষের সুবিধার্থে ইনলেট-আউটলেট নির্মাণ, ১০.৩০০ কি.মি সী-ডাইক পুনর্বাসন ও প্রতিরক্ষা কাজ।
বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমি নির্বাচিত হয়েই প্রথমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছি। এ কাজের ফলে আজ উপকূলের জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। এ কাজে নানা কারণে সময় ক্ষেপণ হলেও কোনো অনিয়ম হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, বাঁশখালীর উপকূল হয়ে মেরিন ড্রাইভ হবে। উপকূলে হবে শিল্পাঞ্চল। যার কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচকবাজারে মহিষের মাংসকে গরুর মাংস বলে বিক্রি
পরবর্তী নিবন্ধআংটিতে কাজ না করায় বৈদ্যকে কুপিয়ে জখম