রাউজানে সাদিয়া নাসরিন আঁখি (২৮) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সকালে পুলিশ উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া মজিদা পাড়া গ্রামের ওমান প্রবাসী জিয়াউল হকের ঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করে। নিহত আঁখি প্রবাসী জিয়াউল হকের স্ত্রী। তাদের সংসারে আনিকা নামে ৭ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
প্রবাসী জিয়াউল হকের পরিবারের সদস্যরা জানান, সবার সাথে আঁখি হাসি খুশিতে স্বাভাবিক ছিল। শনিবার রাতের খাবার খেয়ে মেয়ে অনিকা নিয়ে কক্ষে ঘুমাতে যায়। এর মধ্যে গভীর রাতে আনিকা ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখে তার মা বিছানায় নেই। পাখার সাথে ঝুলছে। তখন মেয়েটি দরজা খুলে তার মেজ চাচিকে ডাকাডাকি করে। পরে মেজ চাচি গিয়ে দেখেন আঁখি পাখার সাথে ঝুলছে।
জানা যায়, নিহত আঁখি রাউজান পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মৃত নুরুল আলমের মেয়ে। ১৩ বছর আগে উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া মজিদা পাড়া গ্রামের আমিনুল হকের ছেলে ওমান প্রবাসী জিয়াউল হকের সাথে বিবাহ হয় আঁখির। জিয়াউল হক প্রায় এক বছর যাবত প্রবাসে আছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো সময় কলহ ছিল না। সুখেই ছিলেন তারা।
ঘটনা শুনে মেয়ের লাশ দেখতে ছুটে আসা আঁখির মা নাছিমা আকতার বলেন, আমার মেয়ে আমাদের বাড়িতে কয়েকদিন ছিল। শনিবার দুপুরে আমার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে এসেছে। তার মুখ থেকে কোনো সময় শ্বশুর বাড়িতে অশান্তিতে থাকার শুনিনি। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটলো বুঝে উঠতে পারছি না। আমাদের বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে আসার পর আমাকে ফোন করে কী যেন অসুস্থতার কথা জানিয়েছিল, আসতে বলেছিলো। সকালে খবর পাই মেয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, খবর পেয়ে রোববার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য গৃহবধু গত ১৩ বছর আগে উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া মজিদা পাড়া গ্রামের আমিনুল হকের ছেলে ওমান প্রবাসী জিয়াউল হকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল।












