মৃত্যুর মিছিলে এবার গৃহকর্তা

হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণ

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ

স্ত্রী এবং সন্তানের পর এবার গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেনও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এ নিয়ে নগরীর হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ জনে। ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ আরো ৪ জন ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশংকাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। নিহত ৫ জনকে কুমিল্লার বরুয়ার বাঘমারা গ্রামে দাফন করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর মিছিলে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে।

গত সোমবার ভোরে নগরীর হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন ছয়তলা ভবন ‘হালিমা মঞ্জিল’এর তৃতীয় তলায় সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে ৫ জনই মারা গেছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেন (৪৬)। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় নেয়ার পথে মারা গিয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)। পরদিন মারা যায় এই দম্পতির একমাত্র পুত্র সন্তান সাফায়াত হোসেন শাওন (১৭)। এরপরই মারা যান সাখাওয়াতের ছোটভাই, পূর্তগাল প্রবাসী সামির আহমেদ সুমনের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি। এরপরই না ফেরার দেশে চলে যান সামির আহমেদ সুমন। ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছে।

মেয়েটির আর কেউ রইলো না :

বিস্ফোরণের ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেনের সাজানো গোছানো সংসারটি তছনছ হয়ে গেলো। কুমিল্লার বরুয়ার বাঘমারা গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে বসবাস করছেন হালিশহরে। স্ত্রী এবং দুই সন্তান নিয়ে সাখাওয়াত হোসেনের ছিল সাজানো গোছানো একটি সংসার। হালিশহর এইচ ব্লকের এসি মসজিদের পাশে একটি মোটর ওয়ার্কশপের মালিক তিনি। ঘটনার দিনই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে প্রথমে স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী মারা যান। এরপরই মারা যায় তাদের একমাত্র পুত্র সাফায়াত হোসেন শাওন (১৭)। মঙ্গলবার রাতে মারা যান সাখাওয়াত হোসেন। ফলে তাদের একমাত্র মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা পুরোপুরি একা হয়ে গেলো। স্থানীয় একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ১০ বছরের স্নিগ্ধার পরিবার বলতে আর কিছুই রইলো না। একা হয়ে যাওয়া মেয়েটিও অগ্নিদগ্ধ। তার শরীরও পুড়ে গেছে। তার অবস্থাও আশংকাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে সাখাওয়াত হোসেনের পূর্তগাল প্রবাসী ছোটভাই সামির আহমেদ সুমন চিকিৎসা করাতে চট্টগ্রামে এসে পরিবারসহ ভাইয়ের বাসায় উঠেছিলেন। এই দম্পতিও মারা যান। তাদের দুই সন্তান ৬ বছরের ফারহান আহমেদ আনাস এবং ৪ বছরের আয়েশাও একা হয়ে গেলো। তারাও ঘটনায় দগ্ধ হয়ে বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা
পরবর্তী নিবন্ধবাঁশখালীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা-ব্যানার উত্তোলন