এক সময়ের শরীক দল জামায়াত ইসলামীই বিএনপির সামনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে আছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে। চট্টগ্রামের–১৬ আসনের মধ্যে ৮টি আসনেই এই দুই দলের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবার। তবে ৫টি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় অনেকটা নির্ভার আছে বিএনপি। একইভাবে দুই আসনে শক্ত অবস্থান আছে জামায়াতের। এছাড়া একটি হাড্ডাহাডি লড়াই হবে বিএনপি–এলডিপির। রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আলাপকালে এমন আভাস পাওয়া গেছে। এদিকে যে ৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা নির্ভার সেখানেও তিন আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর। এছাড়া একটিতে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও একটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর সঙ্গে মূল লড়াই হবে বিএনপির। এদিকে দুই আসনে শক্ত অবস্থানে থাকা জামায়াতেরও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। এছাড়া একটি আসনে লড়াই হবে এলডিপির সঙ্গে বিএনপির।
৫ আসনে শক্ত অবস্থান বিএনপির : চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে পাঁচ আসনে শক্ত অবস্থানে আছেন ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থীরা। এর মধ্যে মধ্যে চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট), আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম ও চট্টগ্রাম–৫ আসনে (হাটহাজারী) আছেন বিএনপির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যরিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
এসব প্রার্থীদের মধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৯৯১ সালে তৎকালীন নির্বাচনী এলাকা–৮ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, বন্দর) আসন থেকে এর উপ–নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমীর খসরু সংসদ সদস্য হিসেবে একই এলাকা থেকে নির্বাচিত হন।
মোস্তফা কামাল পাশা সন্দ্বীপ থেকে বিএনপির ব্যানারে ষষ্ঠ (১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি), অষ্টম (২০০১) ও নবম (২০০৮) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন হন তিনি। এছাড়া ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টানা চারবার সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন মোস্তফা কামালা পাশা। ১৯৯০ সালে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৯৬ সালে সপ্তম, ২০০১ সালে অষ্টম ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাউজানে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে ৯৬ সালে তিনি নির্বাচিত হন। সরওয়ার জামাল নিজাম ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন (ষষ্ঠ ও সপ্তম) ও ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন।
এদিকে বিএনপি প্রার্থী শক্ত অবস্থানে থাকলেও আসনগুলোর মধ্যে ৩টিতে জামায়াত ইসলামী, একটি আসনে ইসলামী ফ্রন্ট ও একটি আসনে ১১ দলীয় জোটের শরীক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি প্রার্থীর। এর মধ্যে এর মধ্যে চট্টগ্রাম–১১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম, চট্টগ্রাম–৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীন, চট্টগ্রাম–৬ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী, চট্টগ্রাম–১৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান ও চট্টগ্রাম–৫ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীনের সঙ্গে হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
দুই আসনে শক্ত অবস্থান জামায়াত: ১৬ আসনের মধ্যে দুই আসনে শক্ত অবস্থান আছে জামায়াত ইসলামীর দুই প্রার্থী। এরা হচ্ছেন দুটো হচ্ছে চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এর মধ্যে শাহাজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সাতকানিয়া–লোহাগাড়া আসন থেকে বিজয়ী হন।
এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, চট্টগ্রাম–১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি’র নাজমুল মোস্তফা আমিনের সঙ্গে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সাতকানিয়া–লোহগাড়ারায় বিএনপি’র অগণিত কর্মী সমর্থক রয়েছে। প্রতিবার নির্বাচন এলে সবাই নিজ দলের প্রার্থীও প্রত্যাশা করে। কিন্তু দল কৌশলগত কারণে জোটের প্রার্থী হিসেবে অন্য দলকে ছেড়ে দিত। কিন্তু দীর্ঘ বছর পর দলের প্রার্থী দেওয়ায় সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। যার প্রভাব পড়তে পারে ভোটের মাঠে।
এদিকে চট্টগ্রাম–১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। কিন্তু আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক লেয়াকত আলী, তিনি সাবেক চেয়ারম্যানও। তারও আলাদা কর্মী সমর্থক রয়েছে। মূলত বিএনপি থেকেই দুইজন ভোটের মাঠে থাকায় ভাগ হয়ে যেতে পারেন দলটির ভোটাররা। এতে জামায়াত প্রার্থীর অবস্থান শক্ত হয় ভোটের মাঠে।
জামায়াত–বিএনপির লড়াই যেখানে : ৮ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফুর রহমানের সঙ্গে, চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিনের সঙ্গে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের, চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিকের, চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর এটিএম রেজাউল করিমের, চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও) আসনে বিএনপি’র এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ডা. আবু নাছেরের, চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী–বাকলিয়া) আসনে বিএনপি’র আবু সুফিয়ানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম–১০ বিএনপি’র সাইদ আল নোমানের সঙ্গে জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালীর এবং চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির এনামুল হক এনামের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমের প্রতিদ্বন্ধিতা হবে।
এলডিপি’কে বিএনপির চ্যালেঞ্জ যে আসনে : চট্টগ্রাম–১৪ ( চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে এলডিপির সামনে চ্যালঞ্জ হয়ে আছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন আহমেদ। এলডিপির হয়ে লড়ছেন ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম এর ছেলে ওমর ফরুক। অতীতে এ আসন থেকে একাধিবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অলি।











