মুশফিকুল ফজলসহ ৪ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার

| সোমবার , ৯ মার্চ, ২০২৬ at ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া চার রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারকে ফিরিয়ে আনছে বিএনপি সরকার। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে রদবদলের মধ্যে পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপের মিশন প্রধানকে প্রত্যাহারের খবর জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল রোববার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. মাহফুজুল হক, মো. ময়নুল ইসলাম, এম মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং মো. নাজমুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে বদলির তথ্য দেওয়া হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। অবশ্য আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহারের খবর গত শনিবারই লন্ডনে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের ‘অতিসত্বর’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চব্বিশের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদেশের বিভিন্ন বাংলাদেশ মিশনে পরিবর্তন আনে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওইসব মিশনে দায়িত্বে থাকা পেশাদার কূটনৈতিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে থেকে সরিয়ে অন্যদের রদবদল করা হয়। এর মধ্যে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয় বিভিন্ন মিশনে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতা করা মুশফিকুল ফজল আনসারীকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে মেক্সিকোতে রাষ্ট্রদূত করে পাঠায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মুশফিকুল ফজল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন করে আলোচনায় ছিলেন তিনি।

অতিরিক্ত সচিব সরকারি চাকরি শেষ করে শিক্ষকতা পেশায় যাওয়া মাহফুজুল হককে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিন বছরের চুক্তিতে সিনিয়র সচিব করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর তাকে পতুর্গালে রাষ্ট্রদূত হিসাবে পাঠানো হয়। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ময়নুল ইসলামকে পুলিশ মহাপরিদর্শক করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাড়ে তিন মাস পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর চাকরিজীবন শেষ হলে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে পোল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়।

মালদ্বীপ হাই কমিশনে চুক্তিতে হাই কমিশনারের দায়িত্ব আসা নাজমুল ইসলাম তুরস্কের আঙ্কারা ইলদিরিম বেয়াজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৩৩ বছর বয়সী নাজমুলকে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই দুই বছরের চুক্তিতে রাষ্ট্রদূত করেছিল ইউনূস সরকার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাঁটতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার দুদকের মহাপরিচালক
পরবর্তী নিবন্ধটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবারও চ্যাম্পিয়ন ভারত