শিঙাড়া বলতে আমরা সাধারণত বুঝি আলু, মটরশুটি ও বিভিন্ন মশলার সমন্বয়ে তৈরি সুস্বাদু খাবার। এই শিঙাড়া পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে সময়ের সাথে সাথে শিঙাড়া তৈরিতেও এসেছে বৈচিত্র্য। আলুর জায়গা দখল করেছে গরু, মুরগি, কলিজা ও বিভিন্ন সবজির উপকরণ। যেমন নগরীর লাভলেইন এলাকায় মুরগির কলিজা ও মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি শিঙাড়া খেতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভোজনরসিকরা। ইফতারের পর থেকে রাত আড়াই তিনটা পর্যন্ত চলছে বেচাবিক্রি।
জানা গেছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে শুধুমাত্র এই লাভলেইনে গড়ে উঠেছে ৯টি শিঙাড়া দোকান। বেশিরভাগ দোকানে শিঙাড়া বানানো শুরু হয় ইফতারের পর থেকে। রমজান মাসে তরুণ–তরুণীরা মার্কেটে কেনাকাটা শেষে শিঙাড়া খেতে ছুটে আসছেন লাভ লেইন এলাকায়। এদেরই একজন পাহাড়তলী সাগরিকা এলাকার আদিল রাহাত। তিনি বলেন, নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছিলাম। এক বন্ধু বললো, লাভ লেইনে সুস্বাদু শিঙাড়া পাওয়া যায়। তাই শিঙাড়া খেতে এসেছি। এখানকার শিঙাড়া আসলেই অনেক মুখরোচক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, রমজান মাসে তারাবির পর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে লাভ লেইনে শিঙাড়া খেতে এসেছি। আমি গত বছরও খেয়েছি। তবে এখানকার ব্যবসায়ীরা শিঙাড়া তৈরি করছে কেবল রমজান মাসকে কেন্দ্র করে। তাই বছরের অন্য সময় আমরা এই শিঙাড়ার স্বাদ নিতে পারছি না।
লাভ লেইন এলাকার ফুটপাতে পাশে ‘জামাই সিঙ্গারা’ নামে ব্যানার সাঁটিয়ে শিঙাড়া তৈরি করছিলেন মোহাম্মদ নুরুল হক। জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছর থেকে এখানে শিঙাড়া তৈরি করছে। সাড়াও বেশ ভালো পাচ্ছি। গভীর রাতেও লোকজন শিঙাড়া খাওয়ার জন্য আসছেন। আমরা এখানে মুরগি কলিজা ও মুরগির মাংসের শিঙাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মুরগির কলিজার শিঙাড়া দাম রাখছি ১০ টাকা এবং মুরগির মাংসের শিঙাড়া দাম রাখছি ১২ টাকা।
লাভ লেইন এলাকার ‘মহব্বতের লাভ লেইন’ নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক বলেন, এখানে চার বছর আগে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে আমি শিঙাড়ার ব্যবসা শুরু করি। পরে আমাদের দেখাদেখি আরো অনেকে শিঙাড়া বিক্রি শুরু করে। প্রতিদিন গড়ে আমরা দেড় হাজারের মতো শিঙাড়া বিক্রি করছি। এছাড়া এখনো অনেক মসজিদে তারাবিহ নামাজ শেষ হয়নি। ফলে বিক্রি গত বছরের তুলনায় কিছুটা মন্দা। আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে। এছাড়া ইফতারের জন্য অগ্রিম নিয়েও শিঙাড়া ডেলিভারি দিচ্ছি।
অপরদিকে লাভ লেইনের মুখে জাহেদুল আলমের আনন্দ স্টোরেও তৈরি হচ্ছে মুখরোচক শিঙাড়া। জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৩ বছর ধরে আমি রমজান মাসে শিঙাড়া বিক্রি করছি। এখন অনেকগুলো দোকান হওয়ার কারণে প্রতিযোগিতাও বেড়ে গেছে। তারপরে গুণগত মানের কারণে আমাদের দোকানে ভোজনরসিক লোকজন ভিড় করছে।
এদিকে ইতিহাসবিদের মতে, ফার্সি শব্দ ‘সংবোসাগ’ থেকেই এই শিঙাড়া শব্দের উৎপত্তি। তাদের দাবি, গজনবী সাম্রাজ্যে সম্রাটের দরবারে এক ধরণের নোনতা মুচমুচে খাবার পরিবেশন করা হতো। যার মধ্যে কিমা, শুকনো বাদাম জাতীয় অনেক কিছু দেওয়া হতো। এটাই নাকি শিঙাড়ার আদি রূপ।












