‘মুক্তির গান’ নামে শতবর্ষী গাছের কংক্রিট অবমুক্ত

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২৪ at ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ

নগরের পাহাড়তলীআমবাগান সড়কের দুই পাশে রয়েছে প্রায় শতবর্ষী ৩৫টি দেশজ গাছ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এই সড়কটি সম্প্রসারণের সময় গাছগুলোর গোড়া পিচকংক্রিটে ঢেকে যায়। অথচ যে কোনো গাছের গোড়া কংক্রিট দিয়ে মুড়ে দিলে সে গাছের গোড়ায় বৃষ্টির পানি ও বাতাস চলাচল করতে পারে না, ফলে গাছ বেশিদিন বাঁচতে পারে না। এই অবস্থায় পাহাড়তলীআমবাগান সড়কের গাছগুলো রক্ষায় এগিয়ে আসে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীণ ফিঙ্গারস বাংলাদেশ।

সংগঠনটি চসিকের সহায়তায় ‘মুক্তির গান’ নামে গাছের গোড়ার কংক্রিট অপসারণ করছে। গতকাল শনিবার শেখ রাসেল পার্কের পাশে একটি প্রায় শতবর্ষী বটগাছের গোড়ার কংক্রিট অপসারণের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

এছাড়া শেখ রাসেল পার্কে বিপন্নপ্রায় পারুল, জারুল, সোনালু, হিজল, তমাল, বুদ্ধ নারকেল, গোদা হরিণা, কুম্ভি, পিতরাজ বা রয়না, কৃষ্ণচূড়া, চম্পা, ছাতিম, আমলকী, আম, জাম, কাঁঠাল, নিমগাছ রোপণ করে সংগঠনটি। এ সময় সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক শফিক হায়দার, চিত্রভাষা গ্যালারির পরিচালক শিল্পী মইনুল আলম, প্রফেসর ইমতিয়াজ খান, প্রফেসর কবি শুক্লা ইফতেখার, কবিচলচ্চিত্র নির্মাতা আসমা বীথি, সাংবাদিক গিয়াসউদ্দিন ইলিয়াস, বেলা চট্টগ্রামের কর্মকর্তা মনিরা পারভীন, পরিবেশকর্মী আলিউর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমী ও পরিবেশকর্মী মোয়াজ্জেম রিয়াদ। পরে শেখ রাসেল পার্কে পরিবেশ বিষয়ক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডাক্তার মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর প্রজন্ম এখনো আছে দেখে ভীষণ উজ্জীবিত হচ্ছি। শিল্পী মইনুল আলম বলেন, এক জায়গায় থেমে গেলে হবে না, এই কাজের ধারাবাহিক গতি থাকতে হবে। প্রফেসর শফিক হায়দার বলেন, স্কুলের শিশুদেরকে এই কাজের সাথে যুক্ত করতে হবে। চিন্তাশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। ডাক্তার মনজুরুল করীম বলেন, আজ এই কার্যক্রমের সূচনা হলো, এই কাজ আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটেকনাফে ৩৯ হাজার ইয়াবা ও ২ কেজি গাঁজা জব্দ
পরবর্তী নিবন্ধমা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজে এনাটমি অলিম্পিয়াডের বাছাই