বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিয়ানমার থেকে গোলা আসার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে এ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনাও করেছে দলটি। গতকাল নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়।
এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির আহ্বায়ক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পত্রিকায় দেখলাম মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে ফরেন মিনিস্ট্রিতে ডাকা হয়েছে। যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদেরকে (মিয়ানমার) কোট (উদ্ধৃতি) করে বলে যে, এটা নাকি অ্যাঙিডেন্টাল। আমরাই তো ওদের মুখের কথাটা বলে ফেলছি। যেখানে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে উল্টা অন্যের কথাটা আমাদের মুখ দিয়ে বেরুচ্ছে, সেটাই দুঃখের বিষয়। খবর বিডিনিউজের।
খসরু বলেন, সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, আমরা যখন প্রতিবাদ করেছি, প্রোটেস্ট নোট দিচ্ছি… কিন্তু মিয়ানমার সরকার বলছে এগুলো অ্যাঙিডেন্টাল ব্যাপার। ভুলবশত হয়ে যাচ্ছে। এখন ভুলবশত কতদিন বাংলাদেশ প্রোটেস্ট নোট দিতে থাকবে সেটাই তাদের (সরকার) কাছে আমাদের প্রশ্ন।
তিনি বলেন, প্রোটেস্ট নোটের পর প্রোটেস্ট নোট দিতে থাকবে, তাদের এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের এয়ার স্পেইস ভায়োলেট করবে, বাংলাদেশের লোক মারা যাবে আমাদের এলাকায়। এটা তো আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি মিয়ানমারের এই ঔদ্ধত্য প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অখণ্ডতা… টেরিটোরিয়াল ইন্টিগ্রিটি রক্ষার্থে মেরুদণ্ড সোজা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবৈধ সরকারের নতজানু ও দুর্বল কূটনীতির সুযোগে গত ২৮ আগস্ট শুরু হওয়া মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বেড়েই চলেছে।
ভারত সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, ভারত সীমান্তেও হত্যা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময়েও সীমান্ত হত্যা সংঘটিত হয়েছে।











