মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের সঠিক চিত্র পাওয়া যায় না

টক্সিওলোজি সোসাইটি বাংলাদেশের কর্মশালায় বক্তারা

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

ভেজাল মদ পান করে অনেকে মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকটা চিকিৎসাহীনভাবে অনেকে মৃত্যুবরণ কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। কিন্তু লোকলজ্জা, সামাজিক ও আইনি বিধিনিষেধের বেড়াজালে মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের সঠিক চিত্র পাওয়া যায় না। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দেওয়া গেলে মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত অনেকে সুস্থ জীবন পেতেন।

গতকাল সোমবার নগরীর জিইসি মোড় এলাকার একটি হোটেলে টক্সিওলোজি সোসাইটি বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘মিথানল বিষক্রিয়া ও অ্যালকোহল সম্পর্কিত বিষক্রিয়া মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক আয়োজিত কর্মশালায় এসব তথ্য ওঠে আসে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অধীনে এবং মিথানল ও অ্যালকোহল বিষক্রিয়ার ওপর চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া মেডিকেলে ভর্তি হওয়া রোগীদের ওপর একটা গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৫ জন রোগীকে নিয়ে এই গবেষণার কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক রোবেদ আমীন জানান।

অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমীন জানান, পুরো জনগোষ্ঠীর তুলনায় মদ্যপানের হার অতি নগণ্য। এর মধ্যে মিথানল বিষক্রিয়া বা ভেজাল মদ পানজনিত বিষক্রিয়া আরও কম। তার পরও এই বিষক্রিয়ার সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি জানা দরকার। প্রান্তিক পর্যায়ে বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে এই বিষক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা সবসময় সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অপর মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন, নানা কারণে এই ধরনের রোগীরা সামনে আসতে চায় না। এছাড়া যারা মদে ভেজাল করছে তারাও ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা কিংবা যেসব জায়গায় প্রচলিত মদের অপ্রতুলতা রয়েছে সেখানে এই ভেজাল কার্যক্রম চলে। আক্রান্তরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। মিথানল বিষক্রিয়ার ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রাব্বি চৌধুরী। এ বিষয়ে মতামত দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. জসিম উদ্দিন, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল বারি, চমেক অধ্যাপক ডা. আবদুস সাত্তার, অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ, সহকারী অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আবু সাঈদ, সহকারী অধ্যাপক ডা. রবিউল আলম প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন
পরবর্তী নিবন্ধসাফজয়ী মাহিন মুর্শেদরা পেলেন ক্রীড়া কার্ড