দেখতে দেখতে ৭ মাস পেরিয়েছে আমার মা এর চলে যাওয়া। প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিকে উপলক্ষ করে মায়ের ব্যস্ততা থাকতো স্বাভাবিক এর চেয়ে একটু অন্য রকম। বাড়িতে খই–মুড়ি–মুড়কির মোয়া তৈরির ধুম পড়তো। একার পক্ষে এসব কাজ করার সম্ভব হতো না। পাড়া প্রতিবেশিও এসে মাকে সহযোগিতা করতো। যথারীতি এসবের উৎসাহ–যোগান দিতো আমার বাবা। সে যাই হোক, শৈশব–ছাত্রজীবনে বাড়িতে থাকার সু্বাদে চৈত্র সংক্রান্তিতে খুব ভোরে উঠে ফুল তোলার প্রতিযোগিতা ছিল, কার আগে কে গাছ থেকে ফুল তুলবে। সে সময় খালপাড়ে গিয়ে বিউ ফুলও তুলে আনতাম। অপরদিকে বাবা ব্যস্ত থাকতো ডাবের পানি খাওয়াবে সন্তানদের, কলার মাঝখানে ভাদি (প্রচলিত শব্দ) গাছের বিচি, কাঁচা হলুদের টুকরা ঢুকিয়ে খাওয়াতো। এসব খেলে নাকি রোগ–বালাই এর প্রকোপ থেকে মুক্ত থাকা যায়। শাস্ত্রের কথা বাদই দিলাম। তবে নববর্ষকে সামনে রেখে এসব কিছুর আয়োজন দৃশ্যমান ছিল আমার শৈশব–ছাত্রজীবনে। এ সংস্কৃতি কিন্তু আজকাল গ্রামে তেমন চোখে পড়ে না। ধীরে ধীরে আজ প্রায় হারাতে বসেছে। সবাই আর আগের মতো সময় দিতে চায় না। চায় না এক সপ্তাহ আগে থেকে খই–মুড়ি–মুড়কির মোয়া তৈরিতে। এখন বাজারে বিভিন্ন বাহারি মোয়া পাওয়া যায়, আগের মতো ২/৩ দিন ধরে তৈরি করতে হয় না। তাই অতি সহজে রেডিমেড আয়োজন করা যায়।
১৪৩০ বঙ্গাব্দের সূচনালগ্নে আজ আমার মাকে খুব মনে পড়ছে। কিন্তু আজ মাও নেই, নেই মায়ের সেই ব্যস্ততা। বাবাকেও অসুস্থতার কারণে শহরে অবস্থান করতে হচ্ছে। সারা বাড়িতে একসময় যে প্রাণচাঞ্চল্য ছিল সে বাড়িতে এখন সুনসান নীরবতা। খুব কষ্টদায়ক মনে হচ্ছে, কারণ এ সময়টির জন্য কখনো কল্পনাই করিনি! ভাবতে কষ্ট হয়, কী একটা মধুর সময় ছিল, সে সময়ের স্মৃতি আজো আমাকে তাড়া করে। উৎসব–পার্বণাদিতে পরিবারের সবাই একসাথে বসে খেতাম। এখন আর ইচ্ছা থাকলেও যেতে পারি না। একসাথে বসে খেতে পারি না। এখন ফোন দিয়ে আর বলার কেউ নেই– ‘বাড়িতে আসবে না? কখন আসবে তোমরা’? মা তুমি ভাল থেকো।












