মা ও শিশু হাসপাতাল গবেষণা ও দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে

মতবিনিময় সভায় ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী

| রবিবার , ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

সচিব ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ উপলক্ষে তিনি হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তাবৃন্দ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষকশিক্ষিকা, ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বেসরকারি পর্যায়ে এটি বাংলাদেশে অন্যতম একটি বৃহৎ হাসপাতাল হিসেবে সমাদৃত ও পরিচিত। স্বাস্থ্য সেবায় এই প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামবাসীর একটি আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। করোনাকালীন রোগীদের চিকিৎসা সেবায় আপনাদের অবদান দেশবাসী আজীবন স্মরণ করবে। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে এজন্য আমি এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে গর্ব বোধ করি। এই হাসপাতালের উন্নয়নে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভব সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রধান অতিথি আরো বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বর্তমানে একটি অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আমরা এই হাসপাতালে পাঁচটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য অনুমোদন দিয়েছি। বর্তমানে দুটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ চলমান আছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে বিভিন্ন বিষয়ে জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমাদের দেশের বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই জনশক্তির বিদেশেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জাপান বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লক্ষ এ ধরনের দক্ষ লোকবল নিবে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট সুযোগ। জাপানসহ বিভিন্ন দেশে স্কিল কেয়ার গিভার এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা এবং সরকারীভাবে সনদপত্র দেয়া হবে। চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্স, এটেনডেন্ট, ওয়ার্ড বয় এবং ক্লিনারসহ বিভিন্ন সাপোর্টিং স্টাফদেরকেও স্কিল জনশক্তি হিসেবে তৈরি করতে হবে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এজন্য ব্যাপক পরিসরে কাজ করছে। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনকে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান।

বক্তব্য দেন, কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডোনার) ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসান, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মোহাম্মদ সাগির, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জালাল উদ্দিন, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক, শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অটিজম ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ডা. মাহমুদ আহমেদ চৌধুরী, এনেস্থেসিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. অলক নন্দী প্রমুখ। শেষে প্রধান অতিথি হাসপাতালের অটিজম ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র, ক্যান্সার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, মেডিকেল কলেজের স্কিল ল্যাব, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজ এবং হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগসমূহ পরিদর্শন করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান পাথেয়
পরবর্তী নিবন্ধদীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আমাদের অহংকার, একে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব