মায়ের মামলায় স্ত্রী কারাগারে, অপমানে আত্মহত্যা

পটিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৫ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

পটিয়ায় মায়ের করা মামলায় স্ত্রীকে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন (৩০) নামের এক ব্যক্তি নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জামাল উদ্দিনের ছেলে এবং চরকানায় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরী ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নেজামের স্ত্রী ও শাশুড়ির মধ্যে পূর্বে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে শাশুড়ির একটি আঙুল কামড়ে বিচ্ছিন্ন করে দেন নেজামের স্ত্রী। এ ঘটনায় গত জানুয়ারি মাসে নেজামের মা পটিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গত বৃহস্পতিবার নেজাম ও তার স্ত্রী দু’জনেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং নেজামকে জামিন প্রদান করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মাঈনুল ইসলাম সুমন ও শাহীনা আক্তার জানান, নেজামের জামিন হলেও দুগ্ধপোষ্য শিশু তার মা’কে ছাড়া থাকতে পারবে না জানিয়ে শিশুর পিতা নেজাম তার স্ত্রীর সাথে ওই শিশুকে কারাগারে প্রেরণের অনুমতি চান। আদালত ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুমতি প্রদান করলে নেজামের স্ত্রী ও শিশু সন্তান দুজনকেই কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে নেজাম বাড়িতে ফিরলে কয়েকজন প্রতিবেশি তাকে কটাক্ষ করে নানা ধরণের অপবাদ দিতে থাকে। এ কারণে অপমাণ সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার রাতে নেজাম নিজ ঘরে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।

পটিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। লাশের ময়না তদন্ত শেষে শনিবার তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন রুখে দেওয়ার শক্তি কারো নেই : সালাহউদ্দিন
পরবর্তী নিবন্ধজাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে : শাহাদাত