মাহে রমজানের সওগাত

মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী | বুধবার , ৬ এপ্রিল, ২০২২ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

রমজানের রোজা দ্বারা অর্জন হয় তাকওয়া, ত্যাগ, সংযম, আত্মশুদ্ধি সর্বোপরি আল্লাহ পাকের নৈকট্য। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহ তা’লা মানব জাতিকে সৎ ও যোগ্যজন হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার, কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং রাষ্ট্রের হিতজন বা আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছেন। দিয়েছেন কৃত পাপের জন্য অনুশোচনা করার সুয়োগ। রমজান নফসের সঙ্গে যুদ্ধ করার মাস। নফস মানুষকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দাসত্ব থেকে ফিরিয়ে নিজের দাস বানাতে চায়। নফস যখন মানুষকে গোলাম করে তখন সে গোলাম দ্বারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে। পরকালের পুণ্যের পরিবর্তে ইহকালের লোভ লালসায় আটকে থাকে, একত্ববাদ থেকে ফিরে শিরকের প্রতি ধাবিত হয়। মানুষ তখন আর আল্লাহর বিধান মেনে চলতে পারে না এবং সত্যকে গ্রহণ করতে পারে না। সে নফসের দাসত্বের মাধ্যমে স্বীয় শরীর ও মন-প্রাণকে জাহান্নামের খাদ্যে পরিণত করে। মানবজাতি যদি ইহজগত ও পরজগতের শান্তি চায় তাহলে তাকে নফসের দাসত্ব ছেড়ে আল্লাহর দাসত্ব গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য মুসলমানদের সবচেয়ে সহজ পথ হল সিয়াম সাধনা। আল্লাহ পাকের আনুগত্য করার জন্য রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। আল্লাহর আনুগত্যের জন্য ধৈর্যের অনুশীলন প্রয়োজন। ধৈর্যই হচ্ছে সিয়ামের প্রাণ। ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ধৈর্য্যের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন।
দার্শনিক ঈমাম গাজ্জালীর (রাহ.) বর্ণনা অনুযায়ী, ঈমানের মূল ভিত্তিই হচ্ছে ধৈর্য। ধৈর্য অনুশীলনের মাধ্যমে রমজান মাসে মুমিন মুসলমানগণ পরিপূর্ণভাবে ইবাদতে নিয়োজিত থাকে। রোজার ইবাদতের মধ্য দিয়ে মুমিনদের আর্থ-সমাজিক উন্নয়নও ঘটে। এ মাসের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেসব বিধান মুসলমানদের উপর প্রয়োগ করেছেন সেগুলো সম্পূর্ণরূপে পালন করলে এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) যেভাবে রমজান মাসটি অনুশীলন করেছেন, সেভাবে কাটালে পবিত্র কোরআনে ঘোষিত তাকওয়া অর্জন করা যায়। আর মুমিনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে তাকওয়া অর্জন করা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে সাগরতলে অ্যাকুরিয়াম তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পরবর্তী নিবন্ধআবারও চ্যালেঞ্জের মুখে গার্মেন্টস খাত