মাহে রমজানুল মোবারক রহমত মাগফিরাত এবং নাজাতের বার্তা নিয়ে
প্রতি বছর আমাদের নিকট হাজির হয়। এটি মহান আল্লাহর কাছ থেকে বান্দার জন্য উৎসবের মাস। এই মাসে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। অনেক প্রকার সুযোগের মধ্যে রমজানের প্রথম দশদিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশদিন জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য নির্ধারিত। রহমতের দশদিন বিদায় নিয়েছে, মাগফেরাতের দশদিন চলমান। এই দশদিনে মহান আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাদের ব্যাপক ক্ষমা করে জান্নাতের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলেন। মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেছেন, যে ঈমানের সাথে পূর্ণ সিয়াম পালন করে মহান আল্লাহ পাক তার পূর্বের সকল পাপ মার্জনা করে দেন। (বোখারী)। প্রিয় নবী মাহবুবে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রমজানের রাতে ঈমানের সাথে পুণ্য লাভের আশায় যে ব্যক্তি দণ্ডায়মান (নামায) হয়। তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। রমজান মাসে কত ধরনের গুনাহ মার্জনা করা হয় এবং কত ধরনের নেয়ামত প্রাপ্তি ঘটে তা আমরা ধারণা করতে পারি না। তাই হাদীস পাকে মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, মানুষ যদি মাহে রমজানের রোজার মহাত্মা সম্পর্কে জানত, তাহলে মহান আল্লাহর নিকট সারাজীবন রমজান প্রার্থনা করতো। রমজান শব্দের ধাতুগত অর্থ বসন্তের প্রথম বৃষ্টি। রমজান মাস পাপ-তাপ দগ্ধ বিশ্ববাসীর জন্য দ্রুত পবিত্রতার সওগাত নিয়ে মুসলিম জাহানে শুভ আগমন করে। রমজান শব্দের আভিধানিক অর্থের মধ্যেই এ মহান তাৎপর্যের কথা লুকায়িত আছে। জমিনে যেমন শ্যামল আর নীলিমায় নীল হয়ে উঠে অঝোর ধারা বর্ষণে, রমজানের রোজা তেমনি দেহ-মন
আত্মাকে কলুষমুক্ত ও পবিত্র করে তুলে। তাই রমজানের আগমনের সাথে সাথে মহান আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে একজন ফেরেস্তা প্রত্যেক রাতে বলেন, আছো কী কোনো তওবাকারী, যাকে ক্ষমা করা যায়, আছো কী কোনো প্রার্থনাকারী, যার প্রার্থনা মঞ্জুর করা যায়। এভাবে সারা রমজান ফেরেস্তাটি বলতে থাকে এবং রোজাদার বান্দারা এই ফেরেস্তাটির ডাকে সাড়া দিয়ে ক্ষমা ও তওবা কবুল করে নেয়।













