মালিকপক্ষের সাথে জলদস্যুদের প্রথম যোগাযোগ

মুক্তিপণের বিষয়ে কোনো কথা হয়নি, প্রতারক চক্র নাকি আসল তা আগে নিশ্চিত হতে হবে

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২১ মার্চ, ২০২৪ at ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ

ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়ার ৯ দিনের মাথায় জাহাজ মালিকপক্ষের সাথে দস্যুদের পরোক্ষ যোগাযোগ হয়েছে। গতকাল তৃতীয় একটি পক্ষের মাধ্যমে সোমালিয়ান দস্যুদের সাথে কথাবার্তা শুরু হয়েছে। তবে মুক্তিপণের ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি বলে জাহাজ মালিকপক্ষ জানিয়েছে।

এই যোগাযোগ পুরো প্রক্রিয়ার খুবই প্রাথমিক অবস্থা বলে মন্তব্য করে বিশেষজ্ঞ সূত্রগুলো বলেছে, দস্যুদের পক্ষে যোগাযোগ করা তৃতীয় এই পক্ষ যে ‘আসল লোক’ সেটা আগে নিশ্চিত হতে হবে। সোমালিয়ান দস্যুদের হাতে জাহাজ আটকের পর অতীত অভিজ্ঞতা হচ্ছে নানা ধরনের প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। এমভি আবদুল্লাহর ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রতারক চক্রের খপ্পরে যাতে না পড়ে সেটা আগে ভাগে নিশ্চিত হতে হবে।

এক্ষেত্রে যে তৃতীয়পক্ষ যোগাযোগ শুরু করেছে তাদেরকে জাহাজের নাবিকদের ভিডিও কিংবা বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ঠিকঠাকভাবে মালিকপক্ষ, বীমা কোম্পানি বা পিএন্ডআই ক্লাবের প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করতে হবে। এরপরই পণের অংকসহ মূল আলোচনা শুরু করা হবে। বিষয়টি কিছুটা সময়সাপেক্ষ বলেও সূত্র জানিয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামে অবস্থানকারী ক্যাপ্টেন আতিক জাহাজের নাবিকদের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, জাহাজটি আগের অবস্থানে রয়েছে। নাবিকদের সকলকে ব্রীজে এনে রাখা হয়েছে। স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারে দস্যুরা কিছুটা কড়াকড়ি শুরু করেছে।

দস্যুদের পক্ষ থেকে ফোন আসার ব্যাপারটি নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, আজ ( গতকাল) দুপুরে ‘জলদস্যুরা ফোন করেছে। তবে এখনো কোন কিছু তারা দাবি করেনি। নাবিকদের বিষয়ে এবং জাহাজের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে মাত্র। এখন আলোচনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।’ আমরা আশা করছি একটি সমাধানের পথ বেরিয়েছে। দস্যুরা জানিয়েছে নাবিকরা সবাই ভালো আছে। তাদের ওপর কোন নির্যাতন হবে না। তারা শীঘ্রই আবার যোগাযোগ করবে। তিনি বলেন, আমরা নাবিকদের অক্ষত অবস্থায় ফেরত আনার ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।

নাবিকদের স্বজনদের মধ্যে আশার আলো : এদিকে বিডিনিউজ জানায়, বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর মালিকপক্ষের সঙ্গে সোমালি জলদস্যুদের যোগাযোগ স্থাপনের পর নাবিকদের দ্রুত মুক্তির আশায় বুক বাঁধছেন জিম্মি হওয়া নাবিকদের স্বজনরা।

আবদুল্লাহর চিফ অফিসার আতিক উল্লাহ খানের শ্বশুর মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, এটি একটি ভালো খবর, জিম্মি নাবিকদের পরিবারের জন্য স্বস্তিদায়ক। দস্যুরা যোগাযোগ করেছে মানে নাবিকদের মুক্ত করার একটি প্রক্রিয়া শুরু হল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরে খেলার মাঠ ও পার্ক নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস
পরবর্তী নিবন্ধআবাসিক ভবনে বিপুল নকল ওষুধের মজুদ