যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান হামলার কথা বিবেচনা করছে তখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির শিক্ষার্থীরা তৃতীয় দিনের মতো কর্তৃপক্ষকে অগ্রাহ্য করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে চলা ব্যাপক অস্থিরতা রক্তপাতের মধ্য দিয়ে দমন করেছে। খবর বিডিনিউজের।
ওই সময় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা পরপর তিন দিন ধরে রাস্তায় নামছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় ও নারীদের আল–জাহরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল করে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছে, পতাকা পুড়িয়েছে। আর আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী প্রতিবাদের সময় হাতাহাতিতে জড়িয়েছে। এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ই রাজধানী তেহরানে অবস্থিত। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা একটি ভিডিও যাচাই করে দেখেছে, যেটিতে দেখা যাচ্ছে, আল–জাহরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমরা ইরান পুনরুদ্ধার করবো সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে। তবে এই ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকার আরেকটি লক্ষণ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় নয় এমন কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বারবার দেশটিকে হুমকি দিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক বিরোধ নিয়ে চলমান আলোচনা কোনো চুক্তিতে না গড়ালে খুব খারাপ কিছু হবে বলে বৃহস্পতিবার ফের হুঁশিয়ার করেছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটন চায়, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বেশিরভাগ অংশ বর্জন করুক, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা সীমিত করুক এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করুক।
পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে বলে বিশ্বাস ওয়াশিংটনের। কিন্তু নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে নিয়োজিত আর তারা বোমা বানানোর চেষ্টা করেছে না বলে দাবি করে আসছে ইরান। তেহরানকে নিজেদের দাবি মানতে বাধ্য করতে ইরান ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে আলোচনার টেবিলে ইরানকে নিজেদের দাবি মানতে চায় ওয়াশিংটন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইতোমধ্যেই তার ৩৬ বছরের মেয়াদের মধ্যে সবচেয়ে গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।











