মামলা শুরু, মামলা অনেক হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

| সোমবার , ৩০ অক্টোবর, ২০২৩ at ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ

বিএনপির মহাসমাবেশের দিন পুলিশ, সাংবাদিক, সরকারি সম্পদের ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় অনেক মামলা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিএনপি বর্বরোচিত ও জঘন্যতম উদাহরণ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ঘটনার জন্যই আলাদা আলাদা মামলা হবে। পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়েও মামলা দেবে। সংঘর্ষের পরদিন গতকাল বিএনপির ডাকে হরতাল চলাকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘটনা অনেকগুলো ঘটেছে। প্রধান বিচারপতির বাড়িতে অ্যাটাক করেছে, বাড়িতে ঢুকে গিয়েছে, এ মামলা তো হবেই। আমরা শনাক্ত করছি, যারা যারা এখানে ঢুকেছিলেন, যার যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাদেরকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে। প্রধান বিচারপতির বাড়িতে আক্রমণ হলো। এর দায় কি তারা এড়াতে পারবেন? পুলিশ হত হলো, এর দায় কি তারা এড়াতে পারবেন? পুলিশের তিনটি অস্ত্র তারা জোর করে নিয়ে গেছে, এর দায় কি তারা এড়াতে পারবেন? খবর বিডিনিউজের।

মন্ত্রী বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে যারা অগ্নিসংযোগ করেছেন, এখানে যারা গাড়ি পুড়িয়েছেন তাদের নামে মামলা হবে। যতগুলো গাড়ি পুড়িয়েছে, এস আলমের একটি গাড়ি পুড়িয়েছে, তার মামলা হবে। পুলিশ হাসপাতালে যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তাদের নামে মামলা হবে।

এখন পর্যন্ত কতগুলো মামলা হয়েছে, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, মামলা তো শুরু হয়েছে। মামলা অনেকেই দেবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা মামলা দেবে। সাংবাদিকরা মামলা দেবে। পুলিশ হাসপাতাল মামলা দেবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা মামলা দেবে। পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে যেগুলো দেওয়ার সে মামলা দেবে। মামলা শুরু হয়েছে। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তাদের নামে মামলা দেব।

বিএনপির হরতাল ডাকাতেও বিস্ময়ও প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আহত হলো পুলিশ, ক্ষতিগ্রস্ত হলো মানুষের গাড়িঘোড়া আর হরতাল ডাকে বিএনপি! যারা নিজেরাই এই ঘটনাটা ঘটল তারাই আবার হরতাল ডাকে!

তারা কি দায় এড়াতে পারবেন? : বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা মিটিং করেছেন, যারা উসকানি দিয়েছেন, বলেছেন কালকে থেকে লাগাতার ওমুকতমুক, এই সমস্ত করে জনতাকে উত্তেজিত করেছেন, এই দায় কি তারা এড়াতে পারবেন? এটা বিচার বিভাগ দেখবে, আমরা তাদের সম্মুখে নিয়ে যাচ্ছি। আইন অনুযায়ী বিচার বিভাগ দেখবে।

মির্জা ফখরুলসহ যাদের আটক করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা মিটিং করছিল। যখন মিটিংয়ে বসেছিলেন, তখনই ঘটনাগুলো ঘটছে। তাহলে এর দায় কি তারা এড়াতে পারেন?

যে ছাত্রদল নেতার আঘাতে পুলিশ মারা গেছে বলে জানিয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি কেনএ প্রশ্নে কামাল বলেন, অ্যারেস্ট আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। ক্যামেরা কিছু ভেঙে ফেলেছে, অকার্যকর করে দিয়েছে, তারপরেও আমাদের অনেক ধরনের ক্যামেরা ছিল, ক্যামেরার মাধ্যমে আমরা যাদেরকে চিহ্নিত করব তাদেরকে আমরা অবশ্যই আইনে হাতে সোপর্দ করব। যিনি এটা ঘটিয়েছেন (পুলিশ হত্যা) তিনি অসুস্থ হয়ে গেছেন, পেটালেন পুলিশকে আবার তিনিই অসুস্থ হয়ে গেলেন!

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর বেপরোয়া আক্রমণের অভিযোগ এনে মন্ত্রী বলেন, পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, আরেকজন পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে, তিনিও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। দুইজন আনসার সদস্য মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমার জানামতে শতাধিক পুলিশ বিভিন্নভাবে আহত হয়েছে, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আনসার বাহিনী হাসপাতালে রয়েছে। আওয়ামী লীগের মহিলা কর্মীদের তারা পিটিয়েছে, গায়ে হাত তুলেছে, তারাও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গতকাল দুপুর পর্যন্ত পুলিশ কতজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেই তথ্য জানাতে পারেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমার কাছে এ তথ্য নেই। আমি আপনাদের পরে জানাতে পারব।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রসঙ্গ : সাংবাদিকদের ওপর বেপরোয়া হামলার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, আমি তো মনে করি আপনারা (সাংবাদিক) সে ব্যাপারে সোচ্চার হবেন। যেসব সাংবাদিক আহত হয়েছেন, তারা নিশ্চয়ই সোচ্চার হবেন এবং মামলা দেবেন, আমরা সব মামলা নেব।

নাশকতার আগাম তথ্য ছিল : এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নাশকতা করতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে যা ঘটেছে তা তার কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকেছে। তিনি বলেন, আমরা কি বিশ্বাস করতে পারি একটি সভ্য মানুষ একজন পুলিশকে হত্যা করবে? দেখিয়ে দিল তারা কতখানি নৃশংস, কতখানি বর্বর।

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আন্দোলনের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি কীভাবে মানুষ পুড়িয়েছে। জনসাধারণকে রক্ষা করার জন্য পুলিশ বাহিনী ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করছে।

শনিবারের ঘটনার জন্য পুরোপুরি বিএনপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, আমরা এতগুলো ভিডিও দেখলাম। সমাবেশ শেষ হওয়ার আগে কোনো পুলিশ সেখানে যায়নি, কোনো আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীও সেখানে বাধা দেওয়ার জন্য যায়নি।

জামায়াতের সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিল, আমরা তাদের কিছু বলিনি। আমরা ধৈর্য সহকারে মোকাবিলা করেছি। জামায়াতেকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাইডেনের ভুয়া উপদেষ্টা আরেফী আটক
পরবর্তী নিবন্ধআনোয়ারাসহ সারা দেশে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন আজ