কথাটা রূঢ় শোনালেও আমার বোধ ও উপলব্ধি বলে, আসলে এটাই বাস্তবতা। যত প্রেমের সম্পর্কই হোক না কেন, সুন্দর একটা সময় পেরিয়ে মধ্য বয়সে এসে সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের সংসারেও দুটি মানুষ কেন যেন দুই ভুবনের বাসিন্দা হয়ে যায়। ফুরিয়ে যায় এককালে রাতজাগা পাখিদের শেষ না হওয়া কথার ভাণ্ডার। কারণে অকারণে খুনসুটি করা দম্পতির জীবনও বদলে গিয়ে বরং মতের অমিলে দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব বেড়েই যায়। অভিমানে ভারি হয় দুজনারই হৃদয়। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার অবজ্ঞা অবহেলায় কাটে গুটানো সময়। পাশাপাশি থেকেও কেউ কারো চোখের দিকে আগের মতো করে তাকানোর প্রয়োজন মনে করে না। দেখে না দৃষ্টির গভীরে অভিমানের মেঘ জমেছে কিনা! কিংবা গোপন কোনো ব্যথায় হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন বেড়ে ঠোঁট জোড়া শুকিয়ে রুক্ষ হয়ে আছে কিনকেউ–ই কারো চোখের নিচে গাঢ় কালসিটে কেউ খেয়াল করে না।
পৃথিবীতে বোধহয় মানুষেরাই কেবল অহেতুক অভিমানে মনেমনে মান ভাঙানোর বৃথা প্রত্যাশায় একটুখানি অনুরাগের বাণী শোনার জন্য তীর্থের কাকের মতো প্রতীক্ষা করে। কেউ মন খারাপের কারণ জানতে না চাইলেও মনের স্বপ্নগুলোকে বাক্সবন্দি করে বিষণ্নতা পুষে একাই দগ্ধ হতে হতে নিজের কাছে নিজেই মিথ্যে বলে। ভালো থাকার অভিনয়ে পটুত্ব অর্জন করে নোনাশ্রু গিলে ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে বলে, সুখে আছি, বেশ ভালো আছি। মানুষই মাত্রাতিরিক্ত আবেগে অনেকসময় প্রেম আর প্রয়োজনকে গুলিয়ে ফেলে। প্রত্যাশিত কিছুর অপ্রাপ্তিতে আশাহত হয়ে বিষণ্ন মনের প্রেমানুভূতিকেও মেরে ফেলে। ভুলে যায় একে অপরকে দেয়া সব প্রতীজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতি। তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ছাড়াই একটা বিষয় বোঝা যায়। আসলে মানুষ ও বৃক্ষের মধ্যে অদ্ভুত রকমের মিল খুব পরিলক্ষিত হয়। সেটা হলো– দুটোই যত্ন না পেলে সৌন্দর্য হারায়, যতনে সৌন্দর্য ছড়ায়। সঠিক পরিচর্যার অভাবে বৃক্ষের পাতা মলিন হয়ে যেমনি শুকিয়ে ঝরে যায়, তেমনি প্রিয়জনের অবহেলায় মানুষেরও বেঁচে থাকার ইচ্ছে ফুরিয়ে যায়। জীবনটাকে দীর্ঘ মনে হয়। চারপাশে সব রেখেও কেবল ভাবে, পৃথিবীতে তার কেউ–ই নেই। পরিশেষে বলবো– মানুষ হোক কিংবা বৃক্ষ, সময় থাকতে দুটোরই যত্নের প্রয়োজন। সময় থাকতেই সঠিক পরিচর্যায় মানুষ ও বৃক্ষ দুটোকেই খানিকটা গুরুত্ব দিয়ে, ভালোবাসে মায়ায় যত্নে রাখুন। তবেই জীবন ও প্রকৃতি সুখের রং ছড়িয়ে সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ হবে।












