মানুষের ডাকে ও সময়ের দাবিতে নির্বাচনের মাঠে এসেছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম–১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, নিজের রাজনৈতিক পদ–পদবি বা কোনো জায়গায় পৌঁছার অভিলাষে আমি এখানে দাঁড়াইনি। আমি সারাজীবনের জন্য মানুষের প্রতি কমিটেড, শুধু ১২ তারিখের জন্য নয়। আমার যে কর্তব্য সেটা সঠিকভাবে করতে পারব কিনা সেই জায়গা থেকে খুব ভয় কাজ করছে। আমার কোনো ভুলে যেন মানুষের কোনো বিপদ না হয়। আমার ভুল হলে আপনারা পথ দেখাবেন। মানুষের জন্য কোনটা উপকারী ও টেকসই উন্নয়ন, সেটাই সংসদের বড় একটা কাজ। নির্বাচিত হতে পারলে সেই লক্ষ্যে কাজ করব। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় সাঈদ আল নোমান তার নির্বাচনী এলাকা হালিশহর পাহাড়তলীতে সরকারি হাসপাতাল না থাকা ও জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা উল্লেখ করে তার সমাধানে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টার পাশাপাশি বাবার পরিচয়ের বাইরে স্বতন্ত্রভাবে কাজের কথাও বলেন তিনি। এছাড়া নির্বাচনি এলাকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন হওয়ায় নির্বাচিত হলে মেয়রের সঙ্গে সমন্বয় করে জলাবদ্ধতা, সড়ক সংস্কারসহ নগরবাসীর সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান সাঈদ আল নোমান। একইসঙ্গে সিটি কর্পোরেশন সিডিএ, ওয়াসার মতো সেবা সংস্থাগুলোর কাজে সমন্বয়ের জন্য তিনি চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।
এসময় বিএনপি’র প্রয়াত ভাইস–চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের এ সন্তান বাবার পরিচয়ের বাইরে নিজেরও স্বতন্ত্র কাজের কথা তুলে বলেন, আমারও কিন্তু কিছু কাজ আছে, আমি শুধু বাবার পুত্র নই। এতটুকু আপনারা অনেকেই জানেন। আপনাদের অনেকের সন্তান আমার প্রতিষ্ঠানে কাজও করে, পড়ালেখাও করে। আমার কিছু কাজ আছে, সেটাও আমার পরিচিতি বাবা এবং মায়ের বাইরে।
এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এবং আবদুল্লাহ আল নোমান– একে অপরের পরিপূরক। আমি তার সন্তান। মানুষ নিয়েই ছিল আমার বাবার কাজ। আমার কাজও মানুষকে নিয়েই। আবদুল্লাহ আল নোমান এবং তার সন্তান– আমরা সবসময় গণমানুষের সঙ্গেই ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।
তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু নেতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের জন্য কী উপকারী, কোন উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে–তা ভেবে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করাই সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নিজের জীবন, পরিবার, চিন্তা–ভাবনা এবং সম্পদের বড় একটি অংশ ব্যয় করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। এটিকে নিজের সেবামূলক জীবনের প্রথম ও প্রধান কাজ হিসেবে দেখি।
এসময় বাবার বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, আমার পিতা আবদুল্লাহ আল নোমান শুধু গণমানুষের নেতা ছিলেন না, নীরবে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীসহ উন্নয়নমূলক কাজ করে গেছেন তার অবদানের কথা কেউ ভুলতে পারবে না। তিনি কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু নির্মাণ, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে চার শহীদের স্মরণে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়–যা একটি মুরগির খামার থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়ার জন্য কাজ করেছেন।
সাইদ আল নোমান আসল অর্থে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন জানিয়ে বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানীর ১৬ দফা আমার বাবা ২০০৩ সালের কেবিনেটে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে পেশ করেছিলেন। দেশনেত্রী কেবিনেটে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। ১৬ দফার একটা প্রস্তাবনা আমার বাবা নিজ হাতে লিখে ম্যাডামের কাছে পেশ করেছিলেন। এটা হল একটা উদ্যোগ, একটা প্রচেষ্টা। কিন্তু বাকি ২২ বছর আমরা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি নাই। যদি সময় সুযোগ আমরা পাই, সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে চট্টগ্রামকে ‘আসল অর্থে’ বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দিতে হবে। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাঈদ আল নোমান বলেন, জেনারেল হাসপাতালের সক্ষমতা বর্তমানে খুবই সীমিত। এটিকে আধুনিক ও কার্যকর করে তোলার পাশাপাশি মেডিকেলে কলেজে রূপান্তরের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম–১০ আসনের পাহাড়তলী, খুলশী ও হালিশহর এলাকায় সরকারি হাসপাতালের ঘাটতি প্রকট। তিনি বলেন, হালিশহরের সাধারণ মানুষ বলেছিল, পানির ও রাস্তার সমস্যা এবং কিশোর গ্যাংয়ের কথা। বলেছিল, খুবই বিপদে আছি। এটা অনেক দিনের একটা প্র্যাকটিস হয়ে গেছে আমাদের শহরে, কিশোর গ্যাং। এজন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটাতে হবে একেবারে সমাজের সবক্ষেত্রে। এই চেষ্টা আমি করব।
প্রথমদিন থেকে আমার একটি বক্তব্য ছিল আমাদের নেতাদের কাছে, আমার মিছিল বড় হতে হবে না। দয়া করে আমার মিছিলে যেন কোনো কিশোর না থাকে। তাদের রাজনীতি করার, মিছিলে অংশ নেওয়ার বয়স হয়নি, প্রয়োজনও নেই। সংসদে গিয়েও মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারলে কীভাবে জবাবদিহি করা যাবে? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাবা–মায়ের কাজ এবং আপনাদের সমর্থনের পরেও আমার মতো কেউ যদি সংসদে যায় এবং যে স্বপ্নগুলো আমার আছে, মানুষ যদি মনে করে যে আপনি আপনার মেয়াদের মধ্যে স্বপ্নগুলো নিয়ে কিছু করতে পারেননি, তাহলে পাঁচ বছর পর জনগণ সুযোগ পাবে আরেকজনকে নিয়ে আসবার। সেই সুযোগের নামই গণতন্ত্র। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, যদি আমি নির্বাচিত হই, পাঁচ বছরের মধ্যে আমার যে চেষ্টা, সেই চেষ্টাগুলো সামনে চলে আসতে হবে। সফল হব কি না সেটা আমিও জানি না, তবে আমার চেষ্টা সামনে চলে আসতে হবে, আমার উদ্যোগগুলো সামনে চলে আসতে হবে।
নগর উন্নয়নে সসমন্বয় বিষয়ে এক প্রশ্বের জবাবে তিনি বলেন, আগের মেয়ররা একই কথা বলে যাচ্ছেন। এটা মূলত সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, ওয়াসার মত সংস্থাগুলোকে একটা জায়গায় আসতে হবে। পলিসির কোনো রোল থাকলে সেই সুপারিশ আমি অবশ্যই দিব। চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্দর শুধু জাহাজ আসবে আর যাবে এরকম কিছু না। বন্দরে আরো অনেক অ্যাক্টিভিটি আছে। চট্টগ্রামের গুরুত্ব রাষ্ট্রীয়ভাবে, অনেক বিনিয়োগ দরকার।
নির্বাচনে জয়ের পথে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কিনা প্রশ্নের জবাবে সাঈদ আল নোমান জয়–পরাজয় নিয়ে যিনি ভাবলেন, তিনি প্রথমে নিজের কাছে হেরে গেলেন। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তাহলে মানুষের ভোটে যে জিতবে তাকেই সাধুবাদ দিব। অন্য কেউ হলে তাকে সহযোগিতা করব কাজগুলো করার জন্য।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দিন, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, এম এ সবুর, নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, এস কে খোদা তোতন, শাহ আলম, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, সদস্য কামরুল ইসলাম, আবুল হাসেম, মনোয়ারা বেগম মনি, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম ও সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, আঁখি সুলতানা, শেখ রাসেল, শহিদুল ইসলাম, আরিফুর রহমান মিঠু, কামরুল হাসান আকাশ।












