কৃষি কাজ আরম্ভ হওয়ার আগে মানুষ ছিল শিকারী। আদি মানুষের জীবন ছিল বড় কষ্টের। নিত্যদিন তাকে খুঁজে খুঁজে আহার সংগ্রহ করতে হতো, না হলে উপোস থাকতে হত। প্রথম অবস্থায় মানুষের কৃষি বিষয়ে কোন জ্ঞানও ছিলো না, বীজ বপন করে শষ্য উৎপাদনের মত বুদ্ধি মাথায় আসতে বহুদিন লেগেছিল। প্রত্যেককেই শিকার করতে হত, আর ভর–পেটের খাবার যোগাড় করতে যথেষ্ট পরিশ্রমও করতে হত। পুরুষেরা বাইরে শিকার করত, মেয়েরা বাড়িতে থেকে ছেলে–মেয়ে আর গৃহপালিত পশুগুলির দেখাশুনা করত। কৃষির সূচনার সঙ্গে সঙ্গে মানুষেরও নানা দিকে নানা রকমের নতুন নতুন উন্নতি হতে লাগল। কেউ শিকার করত, আবার কেউ বা মাঠের কাজ করত। তারপর যতই দিন যেতে লাগল, মানুষও নানা রকমের নতুন নতুন শিল্প শিখে তাতে বিশেষজ্ঞ হতে লাগল। এই কৃষির উদ্ভাবনের অপর একটি প্রধান ফল এই হ’ল যে, মানুষেরা গ্রামে এবং শহরে বসবাস আরম্ভ করল। কৃষি কাজ আরম্ভ হবার আগে পর্যন্ত মানুষ নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াত, আর শিকার করে জীবনধারণ করত। একই স্থানে বসে থাকবার তাদের কোন প্রয়োজন ছিল না, যেখানেই যেত, সেখানেই তাদের শিকার মিলত। এ রকম ভাবে ঘুরে বেড়াবার অবশ্য আরেকটা কারণও ছিল। তাদের সঙ্গের গরু, ভেড়া ও অন্যান্য পশুদেরও চরাবার ভূমির দরকার; অনেক দিন এক জায়গার থাকলে পশুগুলির ঘাসের অভাব হত, কাজেই সমস্ত দলটিকে অন্য জায়গায় সরে যেতে হত। কিন্তু মানুষ যখন মাঠে কৃষি কাজ আরম্ভ করল, তখন সেই চাষ করা জমির নিকটে থাকা তাদের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়াল। জমি চাষ করে, বীজ বুনে, সেই জমি ফেলে দূরে সরে যাওয়া আর কিছু চলে না। কাজেই, শস্য–বপনের সময় থেকে শস্য কাটা পর্যন্ত তাদের এক জায়গাতেই সুস্থির হয়ে থাকতে হত, এ রকম করে আস্তে আস্তে শহর, গ্রাম সব গড়ে উঠল। প্রত্যেকের আহার তাকে শিকার করে সংগ্রহ করতে হত। কিন্তু যখন সে মাটি চাষ করে শস্য জন্মাতে আরম্ভ করল, তখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রচুর খাদ্যই সে পেত। এই অতিরিক্ত খাদ্য অথবা শস্য যে সঞ্চয় করে রাখত, এই থেকে আরম্ভ হল খাদ্যের অতিরিক্ততা। কৃষির ফলে, একেবারে যা খেয়ে শেষ করা যায়, তার চেয়ে শস্যের ফলন হত অনেক বেশি। এই বেশিটুকুই সঞ্চয় করা হত। যার অনেক গরু, ভেড়া, উট অথবা শস্য ছিল, তাকেই বলা হত ধনী। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিই হবে আগামী দিনের চালিকা শক্তি।












