মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান-আনিসুলের বিচার শুরু

| মঙ্গলবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল১ গদতকাল সোমবার এ আদেশ দিন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের জন্য দিন রাখা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ গঠনের আগে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের কাছে জানতে চান, তারা দোষ স্বীকার করেন কিনা। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম এবং আসামিপক্ষে মনসুরুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে গেল ৬ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে তিনি তার আসামিদের নির্দোষ দাবি করেন। সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানিপ্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র। এছাড়া সালমান ও আনিসুল হক চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন বলেও প্রসিকিউশনের অভিযোগ।

আদেশের পর কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম বলেন, সাবেক সরকারের উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের দিন আজকে ধার্য ছিল। অনারেবল ট্রাইব্যুনাল তাদের ডিসচার্জ অ্যাপ্লিকেশন নাকচ করেছেন এবং চার্জ গঠন করেছেন। চার্জ গঠনের তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ যে বর্ণনা যেভাবে এসেছে, সেটা হচ্ছে যেতারা কারফিউ জারির ষড়যন্ত্র করে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন, পরিকল্পনা করেছেন এবং উসকানি দিয়েছেন। যার টেলিফোনিক কথোপকথন আমাদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত হয়েছে এবং এঙপার্ট রিপোর্টও আছে। এছাড়াও ২২ জুলাই, ২৮ জুলাই, ৪ অগাস্ট এবং ৫ অগাস্ট মোট ৩০ জনকে হত্যার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছে। তারা নির্দোষ দাবি করে বিচার চেয়েছেন। গত ৪ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একইদিন সকালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। গত ২২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ শুনানি শেষ করেছিল। শুনানির ওই পর্যায়ে সালমান ও আনিসুলের একটি বিতর্কিত ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়েছিল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাইআগস্টের আন্দোলনের সময় করা ওই ফোনালাপের পর ঢাকা ও সারা দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ এই প্ররোচনা হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে কাজ করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভোটে নারী প্রার্থী ৪%, উদ্বেগ সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির
পরবর্তী নিবন্ধনির্বাচনে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি