মাদুরো না থাকলেও ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা ধরে রেখেছেন তার শীর্ষ মিত্ররা

| সোমবার , ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:১২ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তেল সমৃদ্ধ দেশটি কে পরিচালনা করবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তারা ক্ষমতার নিরাপদ, যথাযথ ও সুবিচারপূর্ণ পরিবর্তন না করতে পারা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। কিন্তু ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী, মাদুরোর অনুপস্থিতিতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হয়েছেন আর দেশটির সর্বোচ্চ আদালতও স্থানীয় সময় শনিবার রাতে তাকে পদটি গ্রহণ করার আদেশ দিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।

শনিবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ শপথ নিয়েছেন এবং তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্যের এর কিছুক্ষণ পর রদ্রিগেস ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে এসে হাজির হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার ভাই, দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিওসদাদো কাবেইয়ো এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্‌লদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। রদ্রিগেজ বলেন, মাদুরো এখনো ভেনেজুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট। রয়টার্স লিখেছে, তাদের একযোগে টেলিভিশনে আসা ইঙ্গিত দেয় যে গোষ্ঠী মাদুরোর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে ছিল তারা এখনও ঐক্যবদ্ধ আছেন, অন্তত এখন পর্যন্ত।

শনিবার ট্রাম্প প্রকাশ্যে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোর সঙ্গে কাজ করার পথ বন্ধ করে দেন। অথচ পশ্চিমা গণমাধ্যম তাকে দেশটির সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতো। কিন্তু ট্রাম্প বলেছেন, দেশটির ভেতরে মাচাদোর পক্ষে তেমন সমর্থন নেই। ভেনেজুয়েলার ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাচাদোকে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন তার বদলে তার পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরেক প্রার্থী। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা তখন বলেছিলেন, ওই প্রার্থী বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন; যদিও মাদুরো সরকার তাদের জয় হয়েছে বলে দাবি করেছিল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলার প্রকৃত ক্ষমতা মূলত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছোট একটি চক্রের হাতে আছে। এই অভ্যন্তরীণ চক্রের মধ্যে সামরিকবেসামরিক ভারসাম্য বিরাজ করছে। বর্তমানে রদ্রিগেজ ও তার ভাই বেসামরিক পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন আর কাবেইয়ো ও পাদ্রিনো সামরিক পক্ষের। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কারণে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারকে ভেঙে দেওয়া মাদুরোকে সরানোর চেয়েও জটিল কাজ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপশ্চিম গোলার্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব অঞ্চল ঘোষণা করা ডনরো মতবাদ কী?
পরবর্তী নিবন্ধজেলা ফুটবল রেফারিজ এসো’র সাধারণ সভা ও নির্বাচন ১৬ জানুয়ারি