মাদুরোকে অপহরণের পর ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ টুপি হাতে ট্রাম্প

| বুধবার , ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে। ছবিতে ট্রাম্পকে ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা ও নিজের সই করা একটি টুপি হাতে দেখা পোজ দিতে দেখা গেছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও কট্টর পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম গত সোমবার এঙে ছবিটি পোস্ট করেন। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকদের ধারণা, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিযানের পর তার পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ইরান।

ট্রাম্পের ছবিটি পোস্ট করে লিন্ডসে গ্রাহাম ক্যাপশনে লিখেছেন, তিনি (ট্রাম্প) দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করেছেন। আমি আমেরিকান হিসেবে গর্বিত। ইরানের সেই সাহসী মানুষদের ঈশ্বর রক্ষা করুন, যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়েছেন।

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (আমেরিকাকে আবার মহান করুন) স্লোগান বদলে সে জায়গায় ইরান শব্দটি বসিয়ে এই টুপি বানানো হয়েছে। টুপিতে ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের পতাকার ছবিও আছে, যা ইরানে সরকার পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই অনেকে মনে করছেন। এই ছবি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকিধামকি দেওয়া বাড়িয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।

রোববার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান বিক্ষোভকারীদেরকে হত্যা শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে উদ্ধার করতে আসবে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অতীতে যেমন হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তেমন কিছু আবার হলে ইরানে কঠিন আঘাত হানবে যুক্তরাষ্ট্র। গত রোববার ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত উড়োজাহাজ ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’এ ট্রাম্পের ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা টুপি হাতে নিয়ে থাকা ছবিটি তোলা হয়।

এর আগে একই টুপি পরে ফঙ নিউজে এক সাক্ষাৎকারে লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছিলেন, ইরানজুড়ে মাঝে মধ্যেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলার মধ্যে ট্রাম্প ইরানি জনগণের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। তিনি বলেন, আমি প্রার্থনা করি এবং আশা করি, ২০২৬ সাল হবে সেই বছর, যখন আমরা ইরানকে আবারও মহান করতে পারব।

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কট্টর সমর্থকরা নিজেদেরকে ইরানি বিক্ষোভকারীদের সমর্থক হিসেবে দাবি করলেও, গত জুনে ইরানে ইসরায়েলের হামলাকে তারা সমর্থন জানিয়েছিলেন। ওই হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রও তখন ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল। জবাবে ইরান দোহার একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে স্থাপনাটির ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেই হামলার কিছুক্ষণ পরই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

তবে গত সপ্তাহে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার নতুন করে গড়ার চেষ্টা করলে তিনি আবারও যুদ্ধ শুরু করবেন। এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামপ্রতিক দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানের পর গুঞ্জন উঠেছে যে, ট্রাম্পের পরবর্তী নিশানা হতে পারে ইরান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে দুদকের অভিযান
পরবর্তী নিবন্ধআসুন তুলে নিয়ে যান