মাদক সরবরাহ করতেন কারারক্ষী, হাতেনাতে ধরা

চট্টগ্রাম কারাগারে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার

হাবীবুর রহমান | বুধবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ

কারাগার এক ধরনের সংশোধনাগার। সেখানে মাদকসেবী, মাদক কারবারিরা নিজেদের সংশোধন করেন। এ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন কারাগারেরই একজন কারারক্ষী। বন্দীদের কাছে মাদক বিক্রির চেষ্টা করেছেন তিনি। ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ২৫০ পিস ইয়াবাসহ তৌকির হাসান নামের ওই কারারক্ষী চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে হাতে নাতে ধরাও পড়েছেন। পায়ের মৌজার ভেতর করে বিশেষ কৌশলে বন্দীদের কাছে বিক্রির জন্য তিনি এসব মাদকদ্রব্য নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন। এ ঘটনায় তৌকির হাসানকে তাৎক্ষণিক আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাও রুজু করা হয়েছে। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি জানাজানি হয় গতকাল মঙ্গলবার।

রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ স্লোগান সামনে রেখে পথচলা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সংঘটিত মাদক উদ্ধারের এ ঘটনায় কারাগার থেকে শুরু করে থানা, এমনকি আদালতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারারক্ষীর কাজ বন্দীদের রক্ষায় বা নিরাপত্তায় কাজ করা। সেদিকে মনযোগ না দিয়ে উল্টো তারা বন্দীদের কাছে মাদক সাপ্লাই দিচ্ছেন বা চেষ্টা করছেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও হতাশার। সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই কারাগারকে মাদকমুক্ত করতে ভূমিকা রাখতে হবে।

কারাগার, পুলিশ ও আদালতসূত্র জানায়, কারারক্ষী তৌকির হাসান থেকে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি গত সোমবারের। সেদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. ওসমান গনি কারা অভ্যন্তরে ডিউটিতে গমনের পূর্বে দেহ তল্লাশি করার সময় কারারক্ষী তৌকির হাসানের দুই পায়ের মৌজার ভেতর থেকে কসটেপ মোড়ানো ১০০ গ্রাম ওজনের দুই পোটলা গাঁজা এবং নীল রঙয়ের বায়ুরোধক পলিথিনে মোড়ানো ২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। এরপর ওসমান গনি তাৎক্ষণিক সিনিয়র জেল সুপার, জেলার ও ডেপুটি জেলারকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা ঘটনাস্থলে হাজির হয়। একপর্যায়ে তৌকির হাসানকে তারা সবাই মিলে উদ্ধারকৃত মাদক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উদ্ধারকৃত এসব গাঁজা ও ইয়াবা নিজ হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেন এবং বলেন যে, তিনি হাজতী বন্দী আসামিদের কাছে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে উক্ত গাঁজা ও ইয়াবার চালান নিজ হেফাজতে রাখেন।

কারাগারসূত্র জানায়, পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ কারারক্ষী তৌকির হাসানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. ওসমান গনিকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি নগরীর কোতোয়ালী থানা পুলিশকে চিঠি দিলে পুলিশের একটি টিম কারাগারে এসে উদ্ধারকৃত গাঁজা ও ইয়াবাসহ তৌকির হাসানকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যান। থানা পুলিশ জানায়, কারারক্ষী তৌকির হাসানের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার দিন তথা গত সোমবারই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে গতকাল বিকালে তৌকির হাসানকে আদালতে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রাম আদালতে থাকা কোতোয়ালী থানার জিআরও (প্রসিকিউশন) মনির হোসেন আজাদীকে বলেন, আদালতে হাজির করার পর সিডব্লিও মূলে তৌকির হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাঈমুর রহমান। গতকাল রাতে তিনি আজাদীকে বলেন, এ ঘটনায় অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছেটাকার লোভে পড়ে জেল হাজতে আটক আসামিদের কাছে মাদকদ্রব্য বিক্রয করার উদ্দেশ্যে জব্দকৃত ইয়াবা ও গাঁজা নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন। এ বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে। তিনি অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ও গাঁজাসহ সহকারী প্রধান কারারক্ষী কতৃক হাতে নাতে আটক হয়। এ ঘটনার ব্যাপক তদন্ত প্রয়োজন। এজন্য তৌকির হাসানের তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছি। তবে শুনানি হয়নি।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন আজাদীকে বলেন, কারাগারে মাদক রোধে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। যার প্রেক্ষিতে কারারক্ষীর কাছ থেকে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত কারারক্ষীকে আটক ও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাদবাকি বিষয় তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে দেখবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধবহির্নোঙরে ২০ দিনের বেশি সময় ভাসছে জাহাজ, আগামী ৫ দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের নির্দেশনা