কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক ডাকাতি, অপহরণ, হামলা, লাশ উদ্ধার এবং মাদক কারবারীদের প্রকাশ্য প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঈদগাঁও ও আশপাশের এলাকায় রাত হলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ক এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের তৎপরতা বেড়েছে। অস্ত্রের মুখে বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি, পথচারীদের অপহরণ, নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়—এসব ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত। অনেক ভুক্তভোগী ভয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগও করতে পারছেন না।
সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে রহস্যজনকভাবে লাশ উদ্ধার হওয়াও উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা বলছেন, এসব ঘটনার বেশিরভাগেরই সুষ্ঠু তদন্ত বা দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
মাদক কারবারীদের দৌরাত্ম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু প্রভাবশালী চক্র এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই সাধারণ মানুষ হুমকির মুখে পড়ছেন। ফলে সামাজিক পরিবেশ দিন দিন অস্থির হয়ে উঠছে।
কক্সবাজার জজ কোর্টের এডভোকেট জুলকারনাইন জিল্লু বলেন, “ঈদগাঁওয়ে এত গুরুতর অপরাধ ঘটলেও প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট অভিযান, নিয়মিত টহল এবং দৃষ্টান্তমূলক আইন প্রয়োগ অপরিহার্য।”
ঈদগাহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশফাক উদ্দিন আরফাত যোগ করেন, “প্রতিটি ঘটনার পরে তদন্ত বা তৎপরতা চোখে পড়ছে না। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে দৃশ্যমান এবং শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন, “ঘটনার পর ঘটনাই ঘটছে, কিন্তু প্রশাসনের শক্ত পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিনের মধ্যেই পুনরায় মুক্তি পাচ্ছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঈদগাঁওয়ের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অপরাধচক্রের বিস্তারের ফল। তাই আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে সমন্বিত উদ্যোগ, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।
এদিকে, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—আর কত বড় ঘটনা ঘটতে হবে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখার জন্য?
ঈদগাঁওয়ের মানুষ দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছেন।












