মাদকাসক্তি জীবনকে বিষাদময় ও বিপন্ন করে তোলে। অথচ দুর্ভাগ্যজনক যে, দেশে বহু যুব তরুণ আজ মাদকাসক্ত হয়ে জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। মাদকের সর্বনাশা থাবায় তাদের জীবন আজ পর্যুদস্ত। মাদক তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে বাধাগ্রস্ত করে গভীর অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে ধূমপানও একটি খারাপ–মন্দ অভ্যাস। ধূমপানের কারণে ব্যক্তির শারীরিক ক্ষতি ডেকে আনে। মাদক এবং ধূমপানের বহুবিধ অপকারিতা রয়েছে। ধূমপান শুধু স্বাস্থ্যগত ও শারীরিক বিপর্যয় ডেকে আনে তা নয়, বরং মাদকসেবী ও ধূমপায়ী আর্থিকভাবেও ক্ষতির শিকার হয়। প্রতিদিন শত শত টাকা অপচয় হয় মাদক ও ধূমপানের কারণে। মাদক ও ধূমপান বর্জনের সুযোগ এনে দেয় মাহে রমজান। রোজার মাসে ১২/১৪ ঘণ্টা লাগাতার সিয়াম সাধনার কারণে ধূমপানে আসক্তি হ্রাস পায়। মাদক সেবনেও মানুষ নিরুৎসাহী হয় রোজার মাসে। এই এক মাসের ধূমপান ও মাদক বর্জনের অনুশীলন পুরো বছর রপ্ত করতে পারলে তখন ওই ব্যক্তির জীবনধারাই বদলে যাবে। মাদক ও ধূমপানের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। কয়েক দশক আগে ‘আমরা ধূমপান নিবারণ করি– আধূনিক’ নামে একটি ধূমপান বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম। ধূমপান ও তামাক সেবন এক সময় নেশা ও আসক্তিতে পরিণত হয়। জাহান্নাম বা দোজখের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো ধোঁয়া, দুর্গন্ধ ও আগুন। এই তিনটি উপাদান ধূমপানের মধ্যে দেখা যায়। মদ, মাদক, তামাক ও ধূমপান কেবল ব্যবহারকারীর ক্ষতি করে না, অন্যদেরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামের দৃষ্টিতে নিজের ক্ষতি করা, আত্মঘাতী কাজ করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। একজন মাদকসেবী এবং ধূমপায়ী ব্যক্তি নিজের ক্ষতির পাশাপাশি আশপাশের মানুষের ক্ষতি করা। যারা ধূমপান ও তামাক সেবন করেন তাদের মুখ ও শরীর থেকে এক ধরনের উৎকট দুর্গন্ধ বের হয়, যা অন্য মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তা অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইসলাম এর অনুমোদন দেয় না। কোরআন মজিদের সূরা বাকারার ১৯৫ আয়াতে আল্লাহপাক বলেন– ‘আর তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না, তোমরা সৎ ও ভালো কাজ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।’ পবিত্র শবে কদরসহ বিশেষ বিশেষ ফজিলতপূর্ণ দিবস ও রজনীতে আল্লাহতায়ালা বহু বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তারা চিরদিনের জন্য তওবা করে মাদক বর্জন করেন তবে আল্লাহর ক্ষমা আশা করা যায়। রোজার মাস যাবতীয় মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার বড় সুযোগ। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রোজাদারের মাঝে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত হয়। মন্দ অভ্যাস ও কুপ্রবৃত্তির বিনাশ ঘটে। তাই এই মাস থেকেই মাদকাসক্তি ও ধূমপান বর্জনের সুযোগ লুফে নিতে হবে। মাদকাসক্তি ও ধূমপান বর্জনের মোক্ষম সময় রোজার মাস।












