মহাগ্রন্থ ক্বুরআনের বাকারাহ্ অধ্যায়ের সপ্তম পরিচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে মহান প্রতিপালক সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং নিজেই প্রথম মানব আদমকে সমস্ত ভাষার শিক্ষা দিয়েছেন। এই শিক্ষাদানের কথাটি উল্লেখের পরপরই রয়েছে যে আদমের এই ভাষাজ্ঞানের পরিচয় উদ্ভাসিত হওয়ার পরেই বিধাতার সমস্ত দূত আদমকে প্রণিপাত করেছিলেন বিধাতার–ই নির্দেশে। মানবজাতিকে সৃষ্টিকূলে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসানোর ক্ষেত্রে ভাষা অন্যতম নিয়ামক। বলার অপেক্ষা রাখে না যে মাতৃভাষাই হচ্ছে প্রতিটি মানুষের মননচর্চার প্রধান উৎস। তাই মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিটি মানুষের কাছে সবকিছুর উর্ধ্বে। আর জাতি হিসেবে বাঙলা ভাষাভাষীরা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল সম্মানিত জনগোষ্ঠী। কারণ মাতৃভাষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের ইতিহাস একমাত্র বাঙালির –ই রয়েছে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বাঙলা একটি প্রাচীনতম ভাষা। প্রকৃতির আবর্তন– বিবর্তনের ধারায় জনপদ ও জনতার বৈচিত্র্যময় পরিণতিতে বাঙলা ক্রমশ একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বিনির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছে। বলা যায় – এই ভাষাটি আধুনিক দুনিয়ার এক অপরিহার্য গণভাষায় রূপ নিয়েছে। মাতৃভাষার জন্য প্রাণবিসর্জনের সেই বিরল ইতিহাসকে সম্মান জানাতে বাঙালির ভাষাসংগ্রামের সেই দিনটিকে ‘মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে গোটা পৃথিবীতে পালন করা হচ্ছে। এটি বাঙলা ও বাঙালির জন্য বিরল মর্যাদা যেমন, তেমন–ই রয়েছে এর একটি অনস্বীকার্য দায়।
ভাষা টিকে থাকে মানুষের মুখে মুখে কিন্তু মর্যাদা ফুটিয়ে তুলতে হয় শিল্প ও সাহিত্যের মাধ্যমে। যে ভাষার সাহিত্য যতো সমৃদ্ধ সেই ভাষার মর্যাদা আর ভালোবাসাও ততো বেশি। সাহিত্য সমৃদ্ধ হয় জনগোষ্ঠীর আবহমান কালের ক্রীড়া ও লীলার শব্দচিত্রায়নের মাধ্যমে। বাঙলা ভাষার সেই চিরন্তন গর্বমণি রয়েছে। শতবছর আগেই বাঙলা কবিতার এক ঋষিকল্প নির্মাতা বিশ্বকবির মর্যাদা লাভ করেছিলেন। মাতৃভাষাকে ভালোবাসতে হয় মায়ের মতো করে, মর্যাদাও দিতে হয় সেই মায়ের মতোই। আমাদের মাতৃভাষা বাঙলাই আমাদের বৈশ্বিক মর্যাদার মূল স্তম্ভ। একে আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার ব্রত পালন করতে হবে আমাদের। সেই ব্রত পালনের জন্য বলনে ও লিখনে বিশুদ্ধতার চর্চায় গভীর অভিনিবেশ করা চাই।











