স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. শেখ ছাইদুল হক গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ৪ দিন চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলা সফর করেন। দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে প্রদত্ত স্বাস্থ্য সেবার সুপারভিশন ও মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্যে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নৌ–পথে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলাধীন ভাসানচরে গমন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই দুই কর্ণধার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইএসও’র প্রকল্প পরিচালক ডা. বিপাশ খীসা, মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন কনসালট্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব,) ডা, মাহাবুবুর রহমান ভূঁইয়া, নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি। ইউএনএইসসিআর ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভাসানচরের মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট জোন পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই টিম।
পরিদর্শনকালে ভাসানচরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মহাপরিচালক বলেন, বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপে এত সুন্দর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষত মেডিকেল বর্জ্য আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ধ্বংস করা, সমস্ত দ্বীপ থেকে কুড়িয়ে আনা বর্জ্য দিয়ে কম্পোষ্ট সার তৈরী করে সেগুলো চাষাবাদের কাজে ব্যবহার এবং বর্জ্যের মধ্য থেকে বাছাইকৃত প্লাাস্টিক ও পলিথিন রিসাইকেলিং এর মাধ্যমে দ্বীপটি পরিবেশ দূষনমুক্ত থাকছে। দেশের সকখানে এই ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। পরবর্তীতে এই টিম বাজার মনিটরিং করেন। সেখানে অবস্থানরত ব্যবসায়ীদের পঁচা ও বাসি খাবার বিক্রয় থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়। বাজারের পানের দোকানীদের তামাক ও জর্দার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়। শেষে ভাসান ভাসানচর ২০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক, নার্স ও এনজিও কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। সভা শেষে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটির আঙ্গিনায় বৃক্ষ রোপন করা হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী হাতিয়ার ভাসানচর থেকে সন্দ্বীপ উপজেলায় যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এ সময় টিমের সদস্যদেরকে স্বাগত জানান চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. জিল্লুর রহমান ও সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানস বিশ্বাস। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটির সেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক এবং নার্সদের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো, আবু জাফর। একই দিনে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন উদযাপন পরবর্তী বিভাগীয় পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি। বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সেখ ছাইদুল হক, চট্টগ্রাাম বিভাগের ১১টি জেলার সিভিল সার্জনসহ ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর চমেক হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন সভায় সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্তি মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সেখ ছাইদুল হক, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলমসহ চমেক হাসপাতালের সকল বিভাগীয় প্রধানগণ, উপ–পরিচালক ও সহকারী পরিচালকগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
৬ ফেব্রুয়ারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গমন পরিদর্শন করেন। অতিথিগণকে স্বাগত জানান উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহাতাব উদ্দিন। পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটির সেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক এবং নার্সগণের সাথে মতবিনিময় করেন অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












