‘মাঠের মানুষ আমিনুল’ই পেলেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

স্পোর্টস ডেস্ক | বুধবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ক্রীড়াঙ্গনের নাড়িনক্ষত্র জানা একজন ‘মাঠের মানুষ’ই পেলেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তিনি হলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক ও কিংবদন্তি গোলরক্ষক মো. আমিনুল হক। জাতীয় নির্বাচনের পর আমিনুলের এই নতুন অভিষেককে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা। দেশের দুই শীর্ষ ক্রীড়া ফেডারেশন ফুটবল ফেডারেশন ও ক্রিকেট বোর্ড আমিনুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল স্বাক্ষরিত অভিনন্দন পত্রে ফুটবল ও ক্রীড়াঙ্গন তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

আমিনুল হকের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্তিকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি ‘তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দেশের ইতিহাসে প্রথম সাবেক ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমিনুল হকের টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়াকে বড় ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিসিবি। প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে এক বিবৃতিতে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমিনুল হকের মতো একজন স্বনামধন্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে এই দায়িত্ব দেওয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাতীয় দলকে গর্বের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার ফলে ক্রীড়াবিদদের বাস্তবতা, মাঠের চ্যালেঞ্জ এবং তাদের প্রত্যাশাগুলো তিনি খুব কাছ থেকে বোঝেন।

বিবৃতিতে বিসিবি সভাপতি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের ক্রীড়া কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে ক্রিকেট বোর্ড নতুন প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা ভবিষ্যতে আরও উন্নত সুযোগ ও ধারাবাহিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবেন।

ক্রীড়া সাংবাদিকদের তিন সংগঠন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি, বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস কমিউনিটি পৃথক পৃথক অভিনন্দন বার্তা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, তার নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ঘটবে। জাতীয় দলের সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক এই নিয়োগকে একটি ‘বিপ্লবের’ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমিনুল এই মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। আশা করি তিনি কাঙ্খিত পরিবর্তন আনতে পারবেন।’ ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে অন্য ফেডারেশনগুলোও নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ফেডারেশনের পাশাপাশি ক্রীড়াবিদ, সংগঠকরা ব্যক্তিগতভাবেও অভিনন্দন জানিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘আমিনুলের একটি নিজস্ব ভিশন রয়েছে। তিনি দেশের ইতিহাসের সেরা ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’ স্বর্ণজয়ী শুটার শারমিন আক্তার রত্না এই নিয়োগে স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমিনুল ভাই সব বিষয়ে অবগত। আমরা আশা করি এখন থেকে ক্রীড়াবিদরা তাদের ন্যায্য অধিকার পাবেন।’ আমিনুলের দীর্ঘদিনের সতীর্থ গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘নির্বাচনে হারলেও দল তাকে মূল্যায়ন করায় পুরো ক্রীড়াঙ্গন আজ সম্মানিত। সাবেক ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী আশা করেন, আমিনুলের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গন আবার সচল হবে।’ জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত কামরুন নাহার ডানা মনে করেন, আমিনুলের খেলোয়াড়ি পরিচয় ও রাজনৈতিক দক্ষতা ক্রীড়াঙ্গনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মূলত ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়াকে ‘পেশা ও জীবিকার মাধ্যম’ হিসেবে গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, আমিনুল হকই হতে যাচ্ছেন তার প্রধান কারিগর। তৃণমূল পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্রীড়াঙ্গনে সুশাসন ফেরানোই এখন নবনিযুক্ত এই প্রতিমন্ত্রীর প্রধান চ্যালেঞ্জ। আমিনুল হক ২০০৩ সালের সাফ জয়ী দলের অন্যতম নায়ক এবং ২০১০ এসএ গেমসের অধিনায়ক ছিলেন।

আমিনুল হকের সামনে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্থবির ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফিরিয়ে আনা। ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন করে সাজাতে হবে। প্রকৃত ও দক্ষ সংগঠকদের হাতে ক্রীড়াঙ্গন ফিরিয়ে দেওয়াই হবে আমিনুলের প্রথম কাজ। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতায় কিছু বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অংশ নিলেও ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গন থমকে আছে দেড় বছর ধরে। ঘরের খেলা সচল করতে আমিনুলকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্বাচিত কমিটি আছে হাতেগোনা কয়েকটিতে। বাকি সব ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন চলছে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। ক্রীড়াঙ্গনে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ফেডারেশনগুলোয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তার মাধ্যমে প্রকৃত সংগঠকদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত সংগঠকদের বাছাই করা হবে আমিনুলের আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আমিনুল হক শুধু এতটুকুই বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনী ইশতেহার ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করাই হবে লক্ষ্য। আমরা যদি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যায় খেলাধুলাকে শৌখিনতা থেকে বের করে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই দলটির প্রধান লক্ষ্য।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধসুপার এইটে জিম্বাবুয়ে, গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় অস্ট্রেলিয়ার
পরবর্তী নিবন্ধবাবা সেলিম খান হাসপাতালে, ছুটে যান সালমান