মাটি কাটা বন্ধ করতে কেটে দিয়েছে কৃত্রিম বাঁধ

সাতকানিয়া মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

সাতকানিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ২৯ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

সাতকানিয়ায় মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। মাটি খেকোদের দেয়া কৃত্রিম বাঁধ কেটে মাটি কাটার স্থলে পানি ঢুকিয়ে দিয়েছে যৌথবাহিনী। গত শুক্রবার উপজেলার নলুয়া ও কেঁওচিয়ার মধ্যবর্তী নয়াখাল এলাকার বিলে মাটি খেকোদের দেয়া কৃত্রিম বাঁধ কেটে দেয়া হয়।

জানা যায়, গত দেড় মাস যাবৎ নলুয়া, ঢেমশা ও কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল থেকে স্কেভেটর দিয়ে ২৫৩০ ফুট গভীর করে আবাদি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করে আসছিল সংঘবদ্ধ চক্র। মাটি খেকোরা আমন ধান কাটার পর থেকে শুরু করে মাটি কাটার প্রক্রিয়া। কোথাও কোথাও সেচ পাম্প বসিয়ে শুকিয়ে ফেলা হয়েছে বিল। আবার কোথাও বিলের মধ্যে এবং প্রবহমান খালে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে বিল শুকিয়ে নিয়েছে। এরপর থেকে শুরু হয় আবাদি জমির মাটি কাটা। বিশেষ করে রাত নামলেই শুরু হয় আবাদি জমির মাটি লুট। অনেক জমির মালিক জানেই না তার জমি থেকে ৩০৩৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে গেছে। মাটি খেকোদের স্কেভেটরে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে ঢেমশা, নলুয়া ও কেঁওচিয়া ইউনিয়নের অনেক বিল। আবাদি জমির মাটিগুলো চলে গেছে ইটের ভাটায়। এতদিন অনেক চেষ্টা করেও মাটিকাটা বন্ধ করতে পারছিল না প্রশাসন। বার বার অভিযান চালিয়ে স্কেভেটর বিকল ও ডাম্পার ট্রাক জব্দ করেও ঠেকানো যাচ্ছিল না মাটি কাটা। অবশেষে গত শুক্রবার মাটি খেকোদের দেয়া কৃত্রিম বাঁধ কেটে দিয়ে মাটি কাটার স্থলে পানি প্রবেশ করিয়ে দেয়ার পর মাটি কাটা বন্ধ হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান। থানার অফিসার ইনচার্জ মন্‌জুরুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, মাটি খেকোদের দেয়া কৃত্রিম বাঁধ স্কেভেটর দিয়ে কেটে দেয়া হয়েছে। ফলে মাটি কাটার স্থলে এখন পানি প্রবেশ করেছে। এখন চাইলেও আর মাটি কাটতে পারবে না। এরপরও কেউ কোন ভাবে মাটি কাটার চেষ্টা করলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমুক্তিযোদ্ধারা যাতে সম্মানের সাথে বসবাস করতে পারে সেই দায়িত্ব আমাদের
পরবর্তী নিবন্ধসাঙ্গুতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, ৩ জনকে আটক করে গণপিটুনি