কক্সবাজার–মহেশখালী নৌ রুটের মহেশখালী চ্যানেলে দুটি স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন এবং একজন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মহেশখালী সংলগ্ন হামিদারদিয়া খালের মুখ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম নুরুন্নাহার প্রকাশ নাগু (৪৭)। তিনি মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের সামিরাঘোনা গ্রামের বাসিন্দা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কঙবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী ও চালকদের বরাতে জানা যায়, মহেশখালী ফেরিঘাট থেকে কঙবাজারগামী ৮৫ নম্বর সিরিয়ালের একটি স্পিডবোট মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রপেলারে মাছ ধরার জাল বা অন্য কোনো বস্তু আটকে যাওয়ায় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় চালক মনজুর বোট থামিয়ে প্রপেলার পরীক্ষা করছিলেন। স্পিডবোটটিতে চালকসহ প্রায় ১০ জন যাত্রী ছিলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন পর্যটকও ছিলেন।
এ সময় কঙবাজার থেকে মহেশখালীগামী ৪৬ নম্বর সিরিয়ালের দ্রুতগতির আরেকটি স্পিডবোট ভাসমান বোটটিকে সজোরে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী স্পিডবোটটি উল্টে যায় এবং কয়েকজন যাত্রী সাগরে ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পর আশপাশে থাকা ট্রলার, স্পিডবোট ও অন্যান্য নৌযানের সহায়তায় যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। তবে এক অজ্ঞাতনামা যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনাকবলিত স্পিডবোটটিতে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ছিল না। চালক মনজুরকে অনভিজ্ঞ বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে দাবি তাদের।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নৌপুলিশ ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি নুরুন্নাহারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিখোঁজ যাত্রীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
দুর্ঘটনাকবলিত স্পিডবোটটি কঙবাজারের স্থানীয় এক ব্যক্তির মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।












