একটি অতিকায় মাছি ভনভন করে আমার চারপাশে ঘুরছে। জানি না, এটি গৃহমাছি না ঘোড়ামাছি। কোন ময়লার স্তুপ, পয়ঃনিষ্কাশনের নর্দমা, মাছের আড়ত, পশুশালা নাকি ফুলশয্যাপরবর্তী পচা ফুলের স্তুপ থেকে সে জানালার জালির ফাঁক গলে ঘরে ঢুকে পড়েছে আর কখনো নাকের কাছে, কখনো মুখগহ্বর নিশানা করে আমাকে ব্যতিব্যস্ত রাখার মিশনে নেমেছে, মাথায় আসে না।
মশা মারার ব্যাট, পোকা মারার স্প্রে অকার্যকর হলে আমি নিজেই নিজের গালে কানে থাপ্পড় মারি আর সে দিব্যি হাইপারসনিক মিসাইলের মতো ঘরের এমাথা ওমাথা ঘুরে আমাকে পাগলপ্রায় করে তোলে।
মনে হয়, এই শতচোখের দস্যুপোকা আহবান করছে তার হাজার হাজার সাঙ্গপাঙ্গদের, যারা আমার শান্তিনিবাসের সুবাস, শুভচিন্তার গতি আর ভালোবাসাজাত কুসুম হৃদয়ের স্পন্দন থামিয়ে একটি মবের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে আমাকে আধমরা করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে।
আজকাল এরকম রক্তখেকো ও মহামারি ছড়ানো দুঃশীল পোকা এবং শান্তিনষ্টকারী মনুষ্যপ্রায় প্রাণীর মাঝে আমি কোনও প্রভেদ দেখি না।











