আজ মহান ১০ মাঘ। মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রধান প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্সূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ১২০তম ওরশ শরীফ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওরশ উপলক্ষে বিভিন্ন মঞ্জিল ব্যাপক কর্মসূচি ইতিমধ্যে হাতে নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
মাইজভাণ্ডার দরবারের প্রধান এই অলির ওরশ শরীফ উপলক্ষে প্রতিবছর লাখ লাখ আশেক ভক্তদের ঢল নামে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আশেক ভক্তের সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আশপাশ। গতকাল শুক্রবার রওজা শরিফ গোসল ও গিলাফ চড়ানোর মাধ্যমে ওরশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ প্রধান দিবসে কেন্দ্রীয় মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। আজ সকাল ৮টায় রওজা শরিফে খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, খতমে খাজেগান, তাওয়াল্লোদে গাউসিয়া পাঠ ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হবে। রাত ১২টায় মিলাদ মাহ্িফল ও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন স্ব স্ব মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীনগণ। এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন ওরশ শরীফ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা, দেশ–বিদেশ হতে আগত আশেক–ভক্ত ও জায়েরীনদের সুবিধার্থে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
জানা যায়, গতকাল সকালে গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) এঁর রওজায় গিলাপ চড়ান গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন হযরত মওলানা শাহসুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.) ও নায়েব সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেম সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খান এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দুল হক খান, ফনিক্স শিপিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সৈয়দ সোহেল হাসনাত, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের উপ–ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের, শাহজাদা সৈয়দ এরহাম হোসাইন, শাহজাদা সৈয়দ মানাওয়ার হোসাইন।
পরে রওজা প্রাঙ্গণে তাওয়াল্লোদে গাউছিয়া, জিকির ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাজ্জাদানশীন সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী।
ওরশের প্রধান দিবস আজ দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল শাহী ময়দানে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি শৃংখলা, কল্যাণ ও মুক্তি কামনা করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করবেন সাজ্জাদানশীন সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী।
ওরশ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নায়েব সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেম সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং মাইজভাণ্ডার ওরস শরীফ সুপারভিশন কমিটির উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে পুরো এলাকা। স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা এবং ভিডিও চিত্র ধারণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা। ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃক্সখলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, ওরশ শরীফ উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে, মহান ১০ মাঘ ওরশ শরীফ উপলক্ষে আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর মনোনীত সভাপতি শাহসুফি সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভাণ্ডারীর স্থলাভিষিক্ত জিম্মাদার আওলাদ শাহসুফি সৈয়দ আহমদ হোসাইন শাহরিয়ার মাইজভাণ্ডারী ও শাহসুফি সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন মাইজভাণ্ডারীর আয়োজনে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলে ১ মাঘ থেকে দশদিন ব্যাপী আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পর্ষদ, চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয় কমিটি ও বিভিন্ন শাখা এবং দায়রার উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
এদিকে ওরশকে কেন্দ্র করে বসেছে গ্রামীণ লোকজ মেলা। মেলায় পোশাক, রকমারী খাবার, গৃহস্থালি প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ বড় সাইজের জাপানি মূলা, যা ভাণ্ডারী মূলা নামে খ্যাত। মেলায় স্থানীয়দের পাশাপাশি উপজাতিরাও ভিড় করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মো. ইব্রাহিম জানান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, স্পেশাল পুলিশ ফোর্স, পুরুষ–মহিলা আনসার টিম আইনশৃংখলা রক্ষায় দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন মনজিলের সমন্বয়ে আগত আশেক ভক্তদের সুবিধার্থে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।












