মহান ১০ মাঘ আগামীকাল শনিবার। মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক, গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.)-এর ঐতিহাসিক ১২০তম ওরস শরীফের মূল আনুষ্ঠানিকতা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে মহাসমারোহে শুরু হয়েছে। আধ্যাত্মিক এই মিলনমেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও বিশ্বের নানা দেশ থেকে লাখো ভক্ত–আশেকানের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ।
সৈয়দ আহমদ উল্লাহর পূর্বপুরুষগণ ছিলেন সৈয়দ এবং মূলত মদিনা থেকে বাগদাদ ও দিল্লি হয়ে মধ্যযুগীয় বাংলার পূর্ববর্তী রাজধানী গৌড়ে চলে আসেন। ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার গ্রামে ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে গাউসেপাক সৈয়দ আহমদ উল্লাহ প্রখ্যাত সৈয়দ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ মতিউল্লাহ এবং মাতার নাম বিবি খায়রুনেছা। গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী হযরত শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) স্থানীয় মক্তবে লেখাপড়া শেষে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশে ১২৬০ হিজরি সনে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ইলমে শরীয়তের প্রতিটি বিষয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করে ১২৬৮ হিজরি সনে কৃতিত্বের সাথে মাদ্রাসা আলিয়ার শিক্ষা সমাপনি শেষে ১২৬৯ হিজরি সনে যশোরে কাজী পদে যোগদান করেন। মাত্র ১ বছর চাকরি শেষ করে ১২৭০ হিজরি সনে কলকাতা মুন্সী বুঁ আলী মাদ্রাসায় এবং পরে কলিকাতা আলিয়া মাদরাসায় অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের ১২৬৮ মঘীয় ১০ মাঘ পবিত্র নিভৃত মুহূর্তে নিঝুম রাতে ১ টার সময় ৭৯ বছর বয়সে ইহকাল ত্যাগ করেন। প্রতি বছর মহাসমারোহে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর (ক.) ওরশ শরীফ ১০ মাঘ বর্তমান সাজ্জাদানশীন কেবলার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
ওরসের প্রধান দিবস আগামীকাল শনিবার। ওইদিন দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল শাহী ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, শৃঙ্খলা, কল্যাণ ও মুক্তি কামনা করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে মোনাজাত পরিচালনা করবেন গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন হযরত মওলানা শাহসুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)।
ওরস শরীফ উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, মালয়েশিয়া ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত–অনুরক্ত দরবার শরীফে সমবেত হয়েছেন। ওরস সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নায়েব সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেম সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং মাইজভাণ্ডার ওরস শরীফ সুপারভিশন কমিটির উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে পুরো এলাকা। স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা এবং ভিডিও চিত্র ধারণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা। ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আগত মেহমানদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট গাড়ি পার্কিং, আবাসন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় ওষুধসহ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সাজ্জাদানশীন সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারীর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিদিন পবিত্র খতমে কোরআন, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর জীবন ও কর্ম, তাসাউফ ভিত্তিক আলোচনা ও ছেমা মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ডিরি)-এর আন্তর্জাতিক ছবি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নির্বাচিত ছবি নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।












