কক্সবাজারের মহেশখালীতে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গাছপালা উপড়ে অন্তত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে উপকূলীয় এই জনপদের প্রধান অর্থকরী ফসল পান বরজ এবং মাঠে থাকা লবণের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় মহেশখালী পৌরসভা, ছোট মহেশখালী, বড় মহেশখালী ও হোয়ানক ইউনিয়নের অনেক স্থানে বিশালাকৃতির গাছ উপড়ে পড়েছে। বেশ কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো উপজেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পৌরসভার গোনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে প্রচণ্ড বাতাসে শতবর্ষী একটি বটগাছ উপড়ে তার বাড়ির ওপর পড়লে মাটির দেয়াল ও টিনের ছাউনিসহ পুরো ঘরটি বিধ্বস্ত হয়। বড় মহেশখালী এলাকার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন জানান, ঝড়টি মাত্র ১০–১৫ মিনিট স্থায়ী হলেও এর তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। এতে অনেক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের চাল উড়ে গেছে। ঝড়ে উপকূলের কৃষিখাতে সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে। বাতাসে পানের বরজ ভেঙে পড়ায় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা। অন্যদিকে, হোয়ানক ও কালারমারছড়ার লবণ চাষিরা জানান, মাঠের লবণ তোলার মৌসুমের ঠিক শেষ সময়ে এই আকস্মিক বৃষ্টি ও ঝড়ে শত শত টন লবণ গলে গেছে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীরা মাঠে কাজ শুরু করেছেন। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।














