পটিয়ায় বিলে মহিষ চরানো নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক কিশোরকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাড়ির অদূরে মহিষ চারণভূমি থেকে গত রোববার রাতে মো. হাসান বাবু (১৬) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সে শোভনদন্ডী ইউনিয়নের কুরাঙ্গগিরি গ্রামের মো. আমিনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী হাছিনা আকতারের একমাত্র ছেলে।
গত রোববার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শোভনদন্ডী ইউনিয়নের কুরাঙ্গগিরি গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ড) বিলে চৈতার মার খালের ঢালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি মো. লিমনকে (২০) ওইদিন রাত ১২টার দিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেপ্তার লিমন একই বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। আমিনুল হক ও আবুল কাসেম বেয়াই বলে এলাকাবাসী জানান।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, পাঁচ দিন ধরে তাদের গ্রামের জনৈক ফোরকান নামে এক ব্যক্তির মহিষ পার্শ্ববর্তী চারণভূমিতে লালন–পালন করে আসছিল হাসান বাবু। প্রতিদিনের মতো রোববার সকাল ৭টার দিকে ১১টি মহিষ নিয়ে কুরাঙ্গগিরি গ্রামের চৈতার মার খালের নিকটবর্তী বিলে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে হাসান বাবু মহিষ রেখে ঘরে এসে ভাত খেয়ে আবার মাঠে যায়। সন্ধ্যা প্রায় ৬টা হয়ে গেলেও সে ঘরে না ফেরায় তার মা ও স্বজনরা হাসানকে খুঁজতে থাকে।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুরাঙ্গগিরি এলাকার চৈতার মার খালের ঢালে ছেলে হাসানক মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে মাটি, নাক–মুখে রক্ত, গলায় নখের জখম ছিল। তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। সবার সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হয়। পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়।
জানা যায়, মোহাম্মদ লিমন ও এজারনামীয়সহ অজ্ঞতনামাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে তারা বাদী হাছিনা আকতার ও তার ছেলে হাসান বাবুকে একাধিকবার মারধরসহ হত্যার হুমকি দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশও হয়।
পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল হক বলেন, এই ঘটনায় ওইদিন রাত ১২টার দিকে হাসন বাবুর মা হাছিনা আকতার (৪৭) বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে একই বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে মো. লিমনসহ (২০) ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২–৩ জনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি লিমনকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।












