মহিমের কষ্ট বাবার কবরের পাশে দাঁড়াতে না পারার

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২৫ আগস্ট, ২০২৩ at ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ

বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে জেয়ারত এবং মাগফেরাত কামনা করে বাবার জন্য দোয়া করতে না পারার কষ্ট দুই বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছেন খালে পড়ে নিখোঁজ সালেহ আহমেদের ছেলে সাদেকুল্লাহ মহিম। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমার দুর্ভাগ্য হচ্ছে বাবার লাশটাও পাইনি। কবরের পাশে গিয়ে একটু জিয়ারতও করতে পারছি না। কবরের পাশে গিয়ে বাবার মাগফেরাত কামনা করব, সে সুযোগও আমার নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মুুরাদপুর মোড়ে চশমা খালের পাড়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন মহিম। দুই বছর আগে ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট ঠিক একই স্থানে অর্থাৎ মুরাদপুর মোড়ে চশমা খালে পড়ে নিখোঁজ হন সালেহ আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে মহিম তার বাবার নিখোঁজের জন্য সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। একইসঙ্গে পরিবারের হাল ধরতে চাকরি প্রত্যাশা করেছেন সিটি কর্পোরেশনের কাছে। মহিম বলেন, উন্মুক্ত নালায় পড়ে যান আমার বাবা। তখন থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বাবার লাশের সন্ধান পাইনি। এজন্য সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএ উভয়ই দায়ী। নালার কাজ কাজ চলার সময় নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘেরাও দিলে এ ঘটনা ঘটতো না। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএকে দায়ী করা হয়।

তিনি বলেন, বাবা নিখোঁজের পর সিটি কর্পোরেশন চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেয় এবং দুই মাস পর চাকরিও দেয়। কিন্তু কোন পদে চাকরি তার কোনো ডকুমেন্টস দেয়নি আমাকে। চাকরি দেবে, অফিসে যেতে বলল, গিয়েছি। পরে আমাকে পেট্রোলপাম্পের শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগিয়ে দেয়। যখন এ চাকরি দেয় তখন আমি একাদশ শ্রেণির ছাত্র। পড়া অবস্থায় ১২ ঘণ্টা ডিউটি করে ওই চাকরি করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। মানে ডিউটি করব আবার পড়ালেখা করব সেটা সম্ভব ছিল না। মেয়রকে অনেকবার রিকোয়েস্ট করেছি, অফিসে একটা চাকরি দেয়ার জন্য। সেটা পিয়নের পোস্ট হলেও। যেন পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরিটাও করতে পারি। অফিসিয়াল না হওয়ায় বাধ্য হয়ে চাকরিটা (পেট্রোল পাম্পের শ্রমিক) ছেড়ে দিই। চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএ থেকে কেউ খবর নেয়নি।

বর্তমানে চাকরি প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে মহিম বলেন, বর্তমানে এইচএসসি পাস করেছি। অফিসিয়াল কোনো স্থায়ী চাকরি হলে করতে চাই। সেটা পিয়নের পোস্ট হলেও। তিনি বলেন, বাবা ছিলেন আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিনি চলে যাওয়ায় পরিবারে অন্ধকারের কালো ছায়া নেমে আসে। বর্তমানে পরিবারে আমি, মা ও বোনসহ ৩ জন আছি। দাদুও আছেন, তিনি অসুস্থ। মামাদের সহযোগিতায় আমাদের পরিবার চলছে।

ক্ষতিপূরণ বিষয়ে বলেন, চাকরি ছাড়ার এক বছর পর ক্ষতিপূরণ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করি। মহামান্য আদালত ক্ষতিপূরণ প্রদানে চার সপ্তাহের রুল দিয়েছিল, কিন্তু ওরা (সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন) কোনো জবাব দেয়নি। সরকার যেন আমাদের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভাঙা হলো কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টের অবৈধ অংশ
পরবর্তী নিবন্ধস্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন চমেক অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা