মহাসড়কে ওজন স্কেল প্রত্যাহারে ব্যবসায়ীদের ঐক্য

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের বড় দারোগাহাট এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় স্থাপিত ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল প্রত্যাহারে একট্টা হয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি খাতুনগঞ্জ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহাবুবুল আলমের উপস্থিতিতে সেই বৈঠকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওজন স্কেল প্রত্যাহারে জোর দাবি জানানো হয়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধুমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওজন স্কেল স্থাপনের কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। কারণ ওজন নিয়ন্ত্রণের ফলে চট্টগ্রাম থেকে প্রতি ট্রাকে ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেলের কারণে চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জের ব্যবসা বাণিজ্যও নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে বাল্ক কেরিয়ারে আসা ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পণ্য চট্টগ্রামে আনলোড না হয়ে সরাসরি চলে যাচ্ছে নারায়নগঞ্জে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়া দেশের আর কোনো মহাসড়কে ওজন স্কেল নেই। মহাসড়কের সুরক্ষায় যদি ওজন স্কেল বসানো হয়, তাহলে দেশের মহাসড়কে কেন বসানো হয়নি সেই প্রশ্নও রাখছেন তারা।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি মাহাবুবুল আলম বলেন, আমরা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ওজন স্কেলের বিরোধী নই। আমাদের দাবিটাও পরিষ্কার, ওজন স্কেল যদি বসাতে হয়, তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের বাকি মহাসড়কেও ওজন স্কেল বসানো হোক। দেশের আর কোনো মহাসড়কে যেহেতু ওজন স্কেল নেই, তাই অন্য অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অনায়াসে প্রতি ট্রাকে ২০ টন পর্যন্ত পণ্য আনা নেয়া করতে পারছেন। অথচ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। এতে ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি অসম প্রতিযোগিতারও সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বর্তমানে মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণের খড়গের কারণে ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম থেকে ব্যবসা বাণিজ্য অন্য জায়গায় স্থানান্তর হয়ে যাচ্ছে। এক সময় চাক্তাই খাতুনগঞ্জ থেকে সারা দেশে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করা হতো। এখন মহাসড়কে শুধুমাত্র ওজন নিয়ন্ত্রণের কারণে বাল্ক কেরিয়ারে আসা বেশিরভাগ পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লাইটারেজ জাহাজে করে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে চলে যাচ্ছে। আমরা শুরু থেকে শুধুমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওজন স্কেলের বিরোধিতা করে আসছি। বিষয়টি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছিলাম। এছাড়া সভা সেমিনারেও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি। আমাদের কথা হচ্ছে, ওজন স্কেল স্থাপন করতে হলে দেশের সবগুলো মহাসড়কে স্থাপন করতে হবে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা এই বৈষম্যের অবসান চান।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে রয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর। এই বন্দরকে ঘিরে যে ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারিত হওয়ার কথা, সরকারের কিছু বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের পদে পদে ভুগতে হচ্ছে। সবগুলো মহাসড়কে পর্যায়ক্রমে ওজন স্কেল বসানো হবে বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়া আর কোথাও বসানো হয়নি। ফলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ট্রাকে ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। অথচ দেশের অন্য অন্য এলাকায় এক ট্রাকে ১৮-২০ টন পণ্য আনা নেয়া হচ্ছে।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ মো. মহিউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল চাক্তাই খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের দুঃখে পরিণত হয়েছে। ওজন স্কেলের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্যকে যেন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এই স্কেলের কারণে শুধুমাত্র ভোগ্যপণ্য নয়, প্রতিটি খাতেই এর প্রভাব পড়েছে। তাই আমাদের দাবি, হয় দেশের সবগুলো মহাসড়কে ওজন স্কেল বসানো হোক, না হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে ওজন স্কেল প্রত্যাহার করা হোক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগুদাম ঘরে মাটির নিচে ৬ কোটি টাকার ইয়াবা
পরবর্তী নিবন্ধ