কন্টেনার টার্মিনাল ইজারার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন ঘিরে চট্টগ্রাম বন্দরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সংসদ নির্বাচনের আগে এসে বন্দরের এ অচলাবস্থা ‘মহাবিপর্যয়’ ডেকে আনতে পারে। ‘এখনই সমাধান না হলে’ সংকট থেকে উত্তরণ কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের ১০ বাণিজ্য সংগঠনের যৌথ বিবৃতিতে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। খবর বিডিনিউজের।
সংগঠনগুলো বলছে, বন্দরে আমদানি–রপ্তানি বন্ধ থাকলে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিবৃতি দেওয়া সংগঠনের তালিকায় রয়েছে– বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বিসিআই, এমসিসিআই, ডিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিটিটিএলএমইএ, বিজিএপিএমইএ এবং বিজিবিএ। বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর সভাপতিদের সই রয়েছে।
নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সপ্তাহ খানেক আগে আন্দোলনে নামে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। শুরুতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের নামে কর্মসূচি শুরু হলেও পরে কর্মসূচি চলে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ ব্যানারে। তাদের লাগাতার কর্মবিরতির কারণে বন্দরের সাধারণ কার্গো বাথ, কন্টেনার জেটিসহ কোথাও পণ্য ও কন্টেনার ওঠা নামার কাজ হয়নি। বর্হিনোঙর থেকে জাহাজ চলাচলও বন্ধ ছিল।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’।
তাদের এ ঘোষণা আসার আগে এদিন ঢাকার গুলশানে বিটিএমএ কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক করেন ১০ বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা।
বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাহাজ চলাচল পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটি একটি বিরল সংকট, যা জাতীয় অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে বিবেচিত দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হচ্ছে। বন্দর এক দিন বন্ধ থাকা মানেই অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাকসহ সকল খাতের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় দেশ এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।’
নেতারা সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই মুহূর্তেই বিষয়টি সুরাহা করুন। এনসিটি ইজারা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নতুন সরকার পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ রাখতে পারেন। কিন্তু তার জন্য বন্দর অচল রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর প্রতি ‘বিশেষ অনুরোধ’ জানিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, আপনারা এই বন্দরের প্রাণ। আপনাদের দাবি–দাওয়া সরকারের কাছে পৌঁছানোর অধিকার আপনাদের আছে। তবে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া মানে নিজের ঘরকে নিজেই বিপদে ফেলা।
আমরা আপনাদের আহ্বান জানাই, দেশের অর্থনীতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই ব্যতিক্রমী অবস্থান থেকে সরে আসুন। নতুন সরকার আপনাদের দাবিগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দিলে বন্দর সচল করাই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দেশপ্রেম।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি, সরকার এবং আন্দোলনরত পক্ষগুলো দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসে আজই একটি টেকসই সমাধান বের করবেন। অন্যথায় এই মহাবিপর্যয় থেকে উত্তরণ কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না।
বিবৃতি দেওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ও বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘বন্দর অচল মানে আমাদের রপ্তানি পণ্য পাঠানোর সময় বেড়ে যাওয়া। সরকারের উচিত হবে দ্রুত সমাধান করা। এটিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে, কোনোভাবেই নেতিবাচক বার্তার সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না।’
বিটিএমইএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘শুধু জাহাজ অপেক্ষাই করছে না। সিঙ্গাপুর থেকে জাহাজ ছাড়ছে না দেশে আসার জন্য। তারা বসে থাকলেও চার্জ (ফি) কিন্তু ঠিকই নিবে।’












