মহানগর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গায়েবানা জানাজা

আবেগাপ্লুত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ, বিপুল অংশগ্রহণ

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মানুষের ঢল নামে। এর মধ্যে নগরের ঐতিহাসিক জমিয়তুল ফালাহ মাঠে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় গায়েবানা জানাজা। এতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এসময় অনেক মুসল্লিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের বেশিরভাগ নেতাকর্মী ঢাকায় অবস্থান করে খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন। ফলে নগরের জমিয়তুল ফালাহ’য় অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেয়াদের বেশিরভাগই ছিল সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জমিয়তুল ফালাহ’য় জানাজা আয়োজনের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে পূর্ব ঘোষণা দেয়া হয়নি। ফলে ইচ্ছে থাকলেও জানা না থাকায় অনেকে জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। অবশ্য শেষ মুহূর্তে জানাজার খবর পেয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ জমিয়াতুল ফালাহ মাঠে জড়ো হতে থাকেন।

নির্ধারিত সময়ে ইমামের নেতৃত্বে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। জানাজায় অংশ নেয়া শহীদ নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নন। কেবল খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে জানাজায় অংশ নিয়েছেন। ফিরোজ নামে একজন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

এছাড়া সাধারণ লোকজন জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সময়ের প্রতীক। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নেতৃত্ব, সংকটকালে রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং গণতন্ত্র রক্ষায় ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। দেশের মানুষের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। নানা প্রতিকূলতা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও তিনি আমৃত্যু আপসহীন অবস্থান ধরে রেখেছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগ্রেপ্তারের পর কারাগারে হেভেন সিটি সেন্টারের রেস্তোরাঁ মালিক
পরবর্তী নিবন্ধশফিকুর রহমানের সম্পদ দেড় কোটি টাকার, কৃষির আয় ৩ লাখ