ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে দেশের মহানগরী এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে পাঠদানের পাশাপাশি অনলাইনেও ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জ্বালানি সংকটের ভিন্ন এ বাস্তবতায় পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর না হয়ে তিন দিন অনলাইনে ও তিন দিন অফলাইনের (সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান) সঙ্গে মিলিয়ে সমন্বিত বা ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে মন্ত্রণালয়। প্রথম ধাপে শুধু সিটি কর্পোরেশনের অধীন বিদ্যালয় ও কলেজের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে এখনও এমন কোনো সুপারিশের খবর মেলেনি। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান, শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে বৈঠকে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে (সশরীরে) ক্লাস পরিচালনার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, সভায় অনলাইন–অফলাইনে ক্লাস চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিন্তু এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা আলোচনা করেছি যে, অনলাইনে এডুকেশনটা প্রমোশন করা…। আমরা এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করব। তারপরে এটা নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে এবং সিদ্ধান্ত আসবে।
মঙ্গলবারের সভায় অংশ নেওয়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, সভায় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষকেরা এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। আশা করছি, শিগগির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।












