মশার উৎপাত, বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়

কক্সবাজারে চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু

এম এ আজিজ রাসেল, কক্সবাজার | বৃহস্পতিবার , ২১ মার্চ, ২০২৪ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র নগরী ২ হাজার ৪৯১ দশমিক ৮৬ বর্গকিমি. আয়তনের কক্সবাজারে বিশাল জনসংখ্যার বসবাস। এছাড়া কক্সবাজারে প্রতিদিন লাখো পর্যটকের সমাগম থাকে। সব মিলিয়ে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম নগরী এই কক্সবাজার। কিন্তু বর্তমানে মশার উৎপাত এতই বেড়ে গেছে যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরীর জনজীবন। বাসাবাড়ি, স্কুল কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস এমনকি যানবাহনেও মশার হাত থেকে নিস্তার নেই। যার ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীর দৈনিক প্রতিবেদনে গত ২০২৩ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৪৬৮ জন। তারমধ্যে পুরুষ ১৪৩৭ জন এবং নারী ১০৩১ জন। এতে ৫ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৩০৮ জন ছিলেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিক।

চলতি বছরের গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের ডেঙ্গু রোগী পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নেয়। তার মধ্যে ১৫ জন পুরুষ এবং ১৯ জন মহিলা। সেখানেও তিনজন মিয়ানমারের নাগরিক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নেয়। তার মধ্যে ৯ জন রোগী মিয়ানমারের নাগরিক। সর্বশেষ চলতি মার্চ মাসে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয় ৪ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ মোট ৯ জন ডেঙ্গু রোগী। তার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, কক্সবাজার পৌরসভার নালা নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণেই মশার বিস্তার ঘটছে। এছাড়া মশা নিধনে অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন পৌরবাসী। কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল মাজেদ বলেছেন, সম্প্রতি এ শহরে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও গিয়ে শান্তি নেই। বাসায় মশা, অফিসেও মশা। কোথাও মশার অত্যাচার থেকে বাঁচার উপায় নেই।

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, মশা এত পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে খুব ভয়ে আছি। কারণ আমার বোনও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা পৌরসভার মেয়রের নিকট আবেদন জানাচ্ছি মশা নিধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্ন কর্মী কাজ করছে। মশা নিধনের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো এবং স্প্রে করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম মশার নগরীতে পরিণত হয়েছে
পরবর্তী নিবন্ধশাহ এমদাদীয়া চট্টগ্রাম মহানগরের মাসিক সভা