মর্টার শেলে কাঁপল সীমান্ত এলাকা

জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইউএনওর বৈঠক শূন্যরেখার অনেক রোহিঙ্গা চলে যাচ্ছে ক্যাম্পে

বান্দরবান ও নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি | সোমবার , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গতকালও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মর্টার শেলের শব্দে কেঁপে উঠেছে ঘুমধুম সীমান্ত অঞ্চল। গতকাল সারা দিন ওপারে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এ অবস্থায় সীমান্তবাসীর চলাচলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিজিবি। এদিকে সীমান্ত এলাকার ৩শ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরানোর চিন্তা করছে প্রশাসন। এসব পরিবারে প্রায় দেড় হাজার সদস্য রয়েছেন। এ নিয়ে গতকাল জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও।
স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সশস্ত্র বাহিনীর সাথে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কয়েক মাস ধরে গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে গোলা নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। এই অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ঘুমধুম সীমান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা। মিয়ানমারে চলমান সংঘাত এবং সীমান্তে উত্তেজনায় সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি বাড়িঘর ছেড়ে স্বজনদের বাসাবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা ফেরদৌস বলেন, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির ঘটনা চললেও সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত না হতে মাইকিং করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃক্সখলা বাহিনী এবং আনসার সদস্যরা স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হতে আশ্বস্ত করছেন। তিনি বলেন, ঘুমধুম সীমান্তে মর্টার শেল বিস্ফোরিত হয়ে রোহিঙ্গার মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কে অনেকে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরে তারা নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছে।
এদিকে শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের তাড়াতে মর্টার শেল হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রোহিঙ্গা দলনেতা দিল মোহাম্মদ। তিনি বলেন, শূন্যরেখায় আশ্রয় শিবিরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করে। ভয়ে শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের অনেকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা ফিরবে।
তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ী বদি আলম, গ্রাম পুলিশ আবদু জব্বারসহ কয়েকজন জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে মর্টার শেলের শব্দে তাদের ঘুম ভাঙে। তারা বলেন, তুমব্রু, কোনারপাড়া, বাইশফাঁড়ি, তুমব্রু হেডম্যানপাড়া, ভাজাবুনিয়া, মধ্যমপাড়া, উত্তরপাড়া, বাজারপাড়া, গর্জনবুনিয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চাকঢালা, সাপমারা ঝিরি ও জামছড়ি গ্রামের মানুষ আতঙ্কে আছে।
এদিকে গতকাল সকাল ১১টায় নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও কার্যালয়ে সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতে জনপ্রতিনিধিদের করণীয় শীর্ষক জরুরি সভা ডাকেন ইউএনও সালমা ফেরদৌস। এতে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে ঘুমধুম ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ডাকা হয়। সভায় ইউএনও সীমান্ত পরিস্থিতি ও করণীয় জানতে চেয়ে বক্তব্য রাখেন।
সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকা থেকে তিনশ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন তুমব্রু, ঘুমধুম, হেডম্যানপাড়া, ফাত্রা ঝিড়ি, রেজু আমতলী এলাকায় বসবাসকারী এসব পরিবারের প্রায় দেড় হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে নেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ আজাদীকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৈঠকে জানানো হয়, ঘুমধুম ইউনিয়নে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি কঠিন হবে। এছাড়া স্কুলগুলোতেও থাকার কোনো পরিবেশ নেই। এ পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। তিনি জানান, সীমান্ত সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে ১৫/২০ দিন। একই সাথে সীমান্তে বিভিন্ন বাগান ও ক্ষেত-খামারের কাজও বন্ধ থাকায় সীমান্তবাসী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপরিত্যক্ত কোয়ার্টারে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ
পরবর্তী নিবন্ধসীমান্তে সতর্ক বিজিবি