৮ মার্চ ক্যালেন্ডারে একটি সাধারণ দিন হলেও আমাদের পরিবারের কাছে এটি গভীর শোক আর স্মৃতির দিন। ২০১৮ সালের এই দিনে হঠাৎই আমাদের সবার প্রিয় মা পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান। ছেলে–মেয়ে, নাতি–নাতনি পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়–স্বজন সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে মায়ের এমন আকস্মিক বিদায় আমরা কেউই কল্পনাও করিনি। আজও সেই দিনের কথা মনে হলে বুকের ভেতর হাহাকার জেগে ওঠে।
মা ছিলেন আমাদের সংসারের আলো, মমতার ছায়া। তাঁর স্নেহ, ভালোবাসা আর ত্যাগে আমাদের যৌথ সংসার ছিল উষ্ণ ও পরিপূর্ণ। মায়ের কণ্ঠের ডাক, তাঁর মমতার স্পর্শ, আমাদের জন্য নিরন্তর দোয়া সবই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। সংসারের ছোট–বড় সব কাজে তিনি ছিলেন সবার আগে। নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানদের সুখেই তিনি খুঁজে পেতেন জীবনের আনন্দ। ২০১৮ সালের সেই দিনটি যেন আমাদের জীবনের আকাশে এক কালো মেঘ হয়ে নেমে এসেছিল। মায়ের হঠাৎ চলে যাওয়া আমাদের জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। সময়ের স্রোত বয়ে যায়, দিন–তারিখ বদলায়, কিন্তু মায়ের অভাব কখনও পূরণ হয় না। ঘরের প্রতিটি কোণে আজও তাঁর স্মৃতি ভেসে বেড়ায় রান্নাঘরের গন্ধে, উঠোনের নীরবতায়, সন্ধ্যার আজানের ধ্বনিতে যেন মনে পড়ে যায় তাঁর স্নেহমাখা মুখ।
মা শুধু আমাদের পরিবারেরই নয়, আশপাশের মানুষের কাছেও ছিলেন একজন দয়ালু ও সহৃদয় মানুষ। প্রতিবেশীদের দুঃখে–সুখে তিনি সবসময় পাশে দাঁড়াতেন। তাই তাঁর মৃত্যুতে শুধু আমাদের পরিবার নয়, আশপাশের অনেক মানুষই গভীরভাবে শোকাহত হয়েছিল। আজও অনেকেই মায়ের কথা স্মরণ করে চোখ ভেজান।
মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আমাদের কাছে শুধু শোকের দিন নয়, বরং তাঁর ভালোবাসা, ত্যাগ এবং আদর্শকে স্মরণ করার দিন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন সততা, মানবতা এবং ধৈর্যের মূল্য। আমরা চেষ্টা করি তাঁর শেখানো পথে চলতে, তাঁর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করতে। মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দেন এবং আমাদের সবাইকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।









