মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় রণতরী পাঠানোর কথা ভাবছেন ট্রাম্প

| বৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

নতুন সংঘাত এড়াতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরুর প্রস্তুতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ‘খুব কঠোর’ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এবং অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হয় আমাদের একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, নয়ত খুব কঠিন কিছু করতে হবে। এই সাক্ষাৎকারেই ট্রাম্প বলেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা ভাবছেন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে একটি মার্কিন রণতরী মোতায়েন রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন রণতরী পাঠানোর ক্ষেত্রে এশিয়ায় থাকা ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ অথবা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে থাকা ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’কে বেছে নেওয়া হতে পারে। তবে এই রণতরীগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে ‘ইউএসএস ফোর্ড’ পাঠানোর বিকল্পও মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের হাতে রয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

গত সপ্তাহে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আলোচনার পর আমাদের মনে হয়েছে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা ও ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ইরান উপকূলের কাছে একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করার পর যেকোনো সময় সামরিক হামলা হওয়ার আশঙ্কার মুখে ওমানে এই বৈঠক হয়। ইরানে গত ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক বিক্ষোভে সরকারের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে ট্রাম্প দেশটিকে সামরিক হস্তক্ষেপ করার হুমকি দিয়েছিলেন। তারপরই তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ান। এই উত্তেজনার মধ্যে ওমানে বৈঠকের মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর অংশ হিসেবে এখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানির ওমান হয়ে কাতার সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক কবে এবং কোথায় হবে সে সম্পর্কে কোনো ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি।

দুই দেশের মধ্যে নতুন আলোচনার প্রস্তুতি চললেও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় পরমাণু চুক্তির পরিধি বাড়িয়ে এতে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে। তবে তেহরানের দাবি, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ তাদের পারমাণবিক অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন দাবি করছে, ইরানকে অবশ্যই ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ত্যাগ করতে হবে। বুধবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ইরানযুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের জন্য চাপ দেবেন। তবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই বিদেশি চাপ, বিশেষ করে ইসরায়েলি চাপের বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, কাতারের আলউদেইদসহ বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন : ইসি
পরবর্তী নিবন্ধকানাডার হাই স্কুলে নারী বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১০