মধুমাখা ডাক

লিপি চৌধুরী | বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ

বছর কতো হয়ে গেলো, মা

আমি কেনো শুনতে পাইনা তোমার, মধুমাখা সেই ডাক!

শীতের পাখিরা ওড়ে আকাশে দলবেঁধে হয়ে ঝাঁক।

আমের মুকুলেরা ভিড় জমিয়েছে বৈশাখের গাছে গাছে

মৌমাছিরা রানির পাশে মৌচাক ঘিরে খুশিতে নাচে।

প্রভাতের সাথে মিতালি পাতিয়ে পাখিরা করে কিচিরমিচির

ঘন কুয়াশায় সবুজ গালিচায় ঝিকমিকে হাসে মুক্তো শিশির।

তবে কি মা, তোমার ছেলেদের রক্তের দাগ ভুলতে পারোনি আজও

বুকে বিঁধে আছে ব্যথার নদী অভিমানের নোনায় সাজো।

তুমি কেনো মা, আগের মতো মধুমাখা হাসি হাসো না

ছায়া সুশীতল ভর দুপুরে লালনের গান গাও না।

কষ্ট কি তোমার বুকের পাঁজরে আছে খামচে ধরে

গভীর নিশীথে নীরবতা ভেঙে রক্ত অশ্রু ঝরে।

তুমি জেনে রেখো মা, আমরাও ভুলিনি

স্বাধীনতা মানে শতো শহীদের বুকের তাজা রক্ত

হারানো ধনের হাহাকার কান্নায় মায়েরা হয়েছে রিক্ত।

স্বাধীনতা মানে কিশোরীর স্বপ্ন চুরমার করা বর্বরতা

সংগ্রামে শপথে মুক্তিসেনারা এনেছে বিজয়ের বারতা।

স্বাধীনতা মানে লাখো মানুষের ঝাঁঝরা বুকের পাঁজর

বেয়নেটের আঘাতে খুঁচিয়ে করেছে গণহত্যার কবর।

মশাল হাতে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে যাঁরা

বছর যায়, আসে নতুন এখনো ফিরেনি তাঁরা।

স্বাধীনতা মানে কষ্ট! ভীষণ কষ্ট আছে বুকে বিঁধে

তোমার মতো মা, আমারও অন্তর কাঁদে বেদনার সান্নিধ্যে।

স্বাধীনতা মানে ‘মা’, আমার প্রিয় মাতৃভূমি

কতো ভালোবাসি তোমায় সে শুধু জানে আমার অন্তর্যামী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনীরব প্রেমের অনুবাদ
পরবর্তী নিবন্ধস্বাধীনতার বই উৎসব