মদুনাঘাট-খুলশী ২৩০ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইনের কাজ শুরু

দৈর্ঘ্য ১৬ কিলোমিটার এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী হবে

শুকলাল দাশ | রবিবার , ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ

বর্ষা শেষ হওয়ায় সাথে সাথে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের অধীনে মদুনাঘাট থেকে খুলশী সাবস্টেশন পর্যন্ত ২৩০ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইনের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প এলাকা ও নগরীর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ১,৮৬১.২৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের কাজ : চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের অধীনে মদুনাঘাট সাবস্টেশন থেকে খুলশী সাব স্টেশন পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইন (২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইন) স্থাপন করা হবে। বর্ষা শেষ হওয়ার পরপর বর্তমানে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইনের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। এছাড়া এই প্রকল্পের অধীনে খুলশীতে বিদ্যমান সাবস্টেশনকে ২৩০/১৩২/৩৩ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনে রূপান্তর করা হচ্ছে এবং আনন্দবাজারে একটি নতুন ২৩০/১৩২ কেভি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে।

মদুনাঘাট থেকে খুলশী সাবস্টেশন পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইন স্থাপনের বাইরে আনোয়ারা থেকে আনন্দবাজার (নিউমুরিং) পর্যন্ত ৪০০ কেভির প্রায় ৫.২৫ কিলোমিটার এবং খুলশী থেকে আনন্দবাজার ও আনন্দবাজার থেকে রামপুর পর্যন্ত ২৩০ কেভির আরও প্রায় ১০ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন এই প্রকল্পের প্যাকেজ–২ এর প্রকল্পটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পের অধীনে সাবস্টেশন নির্মাণ : আনন্দবাজারে একটি নতুন ২৩০/১৩২ কেভি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণ এবং খুলশীতে বিদ্যমান সাবস্টেশনকে ২৩০/১৩২/৩৩ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনে রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মদুনাঘাট থেকে খুলশী সাবস্টেশন পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার ২৩০ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন গ্রিড সার্কেল চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাপস কুমার ভৌমিক।

পিজিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে রাস্তা কাটা যায় না। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল কিংবা দুর্ভোগ লাঘবে সিটি কর্পেরেশন বর্ষা মৌসুমে নগরীতে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে রাস্তা কাটতে দেয় না। ওই সময় প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। বর্ষা শেষ হওয়ায় এখন কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। বর্তমানে মদুনাঘাট থেকে খুলশী পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার ২৩০ কেভির আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রান্সমিশন ক্যাবল লাইন স্থাপনের জন্য সড়কের এক পাশে ড্রেন বা মাটি কাটার কাজ চলছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ও অর্থায়ন : প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১,৮৬১.২৮ কোটি টাকা। উন্নয়ন সহযোগী এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ঋণ ১,২৩৫.৩১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ৪২৯ কোটি টাকা। পিজিসিবির নিজস্ব তহবিল ১৫৩.৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মেয়াদকাল জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি : প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর সূত্র এবং পিজিসিবির অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সার্বিক বাস্তব অগ্রগতি ৮০.১৮% এবং আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৮০.১১%। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ক্যাবল লেয়িং, ড্রেন নির্মাণ ও সাবস্টেশনের যন্ত্রাংশ সংযোজনের কাজ দ্রুত শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য : এই প্রকল্পের মাধ্যমে নগরী এবং সংলগ্ন এলাকার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পভিত্তিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের দ্রুত বর্ধমান চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। এই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামো সুদৃঢ় হবে এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী হবে।

প্রকল্পে সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারা, পটিয়া, হাটহাজারী এবং চট্টগ্রাম শহরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া মদুনাঘাট ও খুলশী সাবস্টেশনে ২৩০ কিলোভোল্টের (কেভি) জিআইএস বে–এঙটেনশন করা হচ্ছে। এর ফলে নতুন করে সম্পূর্ণ সাবস্টেশন তৈরি না করে বিদ্যমান মদুনাঘাট ও খুলশী সাবস্টেশনে নতুন সঞ্চালন লাইন যুক্ত করার সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাতকানিয়ায় পুলিশের গাড়িতে হামলায় মামলা, গ্রেপ্তার ৪
পরবর্তী নিবন্ধসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা